বিশেষ প্রতিনিধি,দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারের মার্চেন্ট ব্যাংক ক্যাল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের দুই গ্রাহকের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের লেনদেন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঋণচুক্তিতে ঋণের পরিমাণ ও সুদের হার ফাঁকা রাখা, ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার শেয়ার বিনামূল্যে স্থানান্তর, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া লেনদেন এবং এক কোটি টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি ২১ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার স্থানান্তর এবং ঋণের সুদ ও ফি নির্ধারণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে কমিশন।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। সম্প্রতি জারি করা আদেশে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, ক্যাল ইনভেস্টমেন্টসের ভি০৩২২ ও ভি০৩১৩ নম্বর বিও হিসাবের লেনদেন তদন্তের আওতায় থাকবে। এসব হিসাবে লেনদেনের অনুমোদন, মার্জিন ঋণের শর্ত, সুদ ও ফি নির্ধারণ এবং জামানত হিসেবে ব্যবহৃত শেয়ারের বৈধতা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপক ও মার্চেন্ট ব্যাংকার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান মেনে চলেছে কি না, তা পরীক্ষা করবেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

তদন্তের অন্যতম বিষয় হলো, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভি০৩২২ হিসাবের জন্য করা পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা চুক্তির সঙ্গে থাকা ঋণ স্বীকারপত্র, অঙ্গীকারপত্র এবং ফি, সুদ ও চার্জসংক্রান্ত তফসিলে ঋণের পরিমাণ, সুদের হারসহ আর্থিক শর্ত ফাঁকা রাখা হয়েছিল কি না। পরে এসব শর্ত পূরণ করা হলে কে, কখন এবং গ্রাহকের সম্মতিতে তা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ভি০৩১৩ হিসাবেও একই ধরনের চর্চা ছিল কি না, তা যাচাই করবে কমিটি।

এ ছাড়া ওরাইজা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার শেয়ার দুই গ্রাহকের হিসাবে শূন্য মূল্যে স্থানান্তরের উৎস ও ভিত্তি তদন্ত করা হবে। শেয়ারগুলো লক-ইনের আওতায় ছিল কি না এবং মার্জিন ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা বিধিবিধানসম্মত ছিল কি না, তাও যাচাই করা হবে।

ভি০৩২২ হিসাব থেকে ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ১ কোটি টাকা উত্তোলন, দুই হিসাবে জমা হওয়া সুদের হিসাব এবং ভি০৩১৩ হিসাবের বিবরণীতে ২১ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার স্থানান্তরের এন্ট্রিও পরীক্ষা করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ভাউচার, হিসাবের নথি ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করবেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

মার্জিন ঋণের সুদ ও ফি নির্ধারণ এবং পরবর্তী সময়ে তা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আগাম নোটিস ও সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্ত করা হবে। অভিযোগে অননুমোদিত হিসেবে চিহ্নিত লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহকের লিখিত, ইলেকট্রনিক বা রেকর্ড করা নির্দেশনা ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে।

এ ছাড়া ভি০৩১৩ হিসাবের পোর্টফোলিওতে ওরাইজা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের অস্বাভাবিক আধিক্য ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শেয়ারধারণ ও পরিচালকের পদ সম্পর্কে ক্যাল ইনভেস্টমেন্টস ও বিটাওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিখিতভাবে অবগত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। আইন বা বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটি ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে তদন্ত কমিটি।