মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি গ্লোবাল হেভী কেমিক্যাল ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ফলে কোম্পানিটি টানা চার বছর শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বঞ্চিত করছে। এছাড়া গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদনে গোঁজামিলের অভিযোগ উঠেছে।

কোম্পানিটি বিপুল পরিমাণ বাকিতে পণ্য বিক্রি ও পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে ঋণের পরিমাণ বেশি হওয়া এবং ব্যয় বেশি দেখিয়ে উৎপাদন কম দেখানো ইত্যাদি কারণে কোম্পানিটির ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোম্পানিটির পন্য বাজারে চললেও টানা লোকসান দিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই বিনিয়োগকারী তথা পুঁজিবাজারের স্বার্থে কোম্পানিটিকে বাঁচানোর জন্য বিএসইসির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা আরো বলছেন, এর আগে তালিকাভুক্ত যত কোম্পানি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সবগুলোই অর্থ লুটপাটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালসের ভেতরে অর্থ লুটপাট হচ্ছে কিনা বা তলাবিহীন ঝুঁড়ি হয়ে গেছে কিনা সে বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনতিবিলম্বে তদন্ত করা দরকার বলে মনে করেন তারা।

জানা গেছে, কোম্পানিটির ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৩০ পয়সা। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ২ টাকা ১৯ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ১ টাকা ১১ পয়সা। এতে কোম্পানিটির লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

গত ৩০ জুন কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ৬০ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশসহ অন্যান্য আলোচ্য বিষয় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। এ জন্য আগামী ২৯ নভেম্বর রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। ওই বছরও লোকসানে ছিল গ্লোবাল হেভী কেমিক্যাল। কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২২ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

কোম্পানিটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে টানা লোকসানে রয়েছে গ্লোবাল হেভী কেমিক্যাল। ফলে একদিকে লোকসান বাড়ছে, অন্যদিকে টানা কয়েক বছর ধরে লভ্যাংশ পাচ্ছেন না শেয়ারহোল্ডাররা।