বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির দুই সিদ্ধান্তে উত্থানে পুঁজিবাজার
শহীদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতনে যখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছিল, তখনই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের বড় উত্থান হলেও আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের।
এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফেরাতে সূচকের টানা উত্থানের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা। তবে মাত্র দুই কার্যদিবসের উত্থানকে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার লক্ষণ হিসেবে দেখতে রাজি নন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কারণ এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কতদিন অব্যাহত থাকে তা পর্যবেক্ষণ না করে বাজারের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির দুই সিদ্ধান্তে পাল্টে গেছে পুঁজিবাজারের চিত্র। বিশেষ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ ও লেনদেনের গতি বাড়াতে দুই বছর ধরে স্থগিত বা অবরুদ্ধ থাকা ৬১৭টি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব শর্তসাপেক্ষে আংশিক সচল করার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তফসিলি ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ তহবিলের ব্যবহারের সময় বৃদ্ধিকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ আগে এই সময়সীমা ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত; কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রীয়ভাবে তা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর বাজারে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলো। ফলে এসব ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত যে বিক্রয়চাপ তৈরি হতো তা অনেকাংশে কমবে। এর ফলে বাজারে ফের তারল্যপ্রবাহ বাড়বে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজার উন্নয়নে বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ ও সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু এসব উদ্যোগের পাশাপাশি ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। ফলে বাজারের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে কারসাজি বন্ধ করতে হবে এবং দরপতন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর। সেইসঙ্গে ডিএসইতে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৭১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪১৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬৮ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৫ টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৫০ টির, দর কমেছে ৮৪ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১ টির। ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন ৬৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার। যা আগের দিন থেকে ১২৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫২২ কোটি ২৮ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৫৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯২টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১১৪ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫৬টির আর ২২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



