সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন কমেছে ৯২৩ কোটি টাকা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতনে যখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছিল, তখনই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। ফলে গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই কমেছে মূল্যসূচক। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশির ভাগ কোম্পানি। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ৯২৩ কোটি টাকা। একই সঙ্গে কমেছে মূল্যসূচক। তবে দৈনিক গড় লেনদেন ১৭ শতাংশ বেড়েছে।ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত আড়াই মাসে টানা দরপতনে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। তাই বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুল চ্যালেঞ্জ। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাজার ভাল হবে এমন প্রত্যাশা ছিলো লাখ লাখ বিনিয়োগকারীদের।
কিন্তু বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে বিশাল ফারাক। এমনকি বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করার সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়া নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হচ্ছে না। যার ফলে আস্থা সংকটে কাটছে না পুঁজিবাজারে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট দূরীকরণের সুশাসনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৯২৩ কোটি টাকা বা .১৩ শতাংশ কমেছে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ২ হাজার ৬৩৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ২ হাজার ২৫০ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ৩৮৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বেড়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪১৩ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৭ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ৬৮ পয়েন্টে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৫ টি কোম্পানি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৮টির, কমেছে ১৬৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।



