জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাল হিসেবে দাঁড়ান: তারেক রহমান
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দলের নেতা-কর্মী ও দেশবাসীকে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যে যেখানে বসবাস করছেন সেখানে ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।
গণতন্ত্রকামী মানুষরা এই ষড়যন্ত্র-নৈরাজ্যের কাছে হার মানতে পারে না। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে প্রত্যেক জনগণের পরিচয় একটি, সেটি হলো- সবাই বাংলাদেশি।’ বুধবার (৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘শেখ হাসিনা বিগত ১৫ বছর বাংলাদেশকে বন্দি করে রেখেছিল। আজ প্রিয় বাংলাদেশ কারাগার ও আয়নাঘরমুক্ত। আয়নাঘরে বিরোধী দলমতের মানুষদের বন্দি করে রাখা হয়েছিল। ছাত্র-জনতাকে বিরোচিত অভিনন্দন। আপনাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা দেশে ছেড়ে পালিয়েছেন। প্রমাণ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ কখনো পরাজয় মানতে পারে না এবং মানবে না।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষ স্বাধীনতা রক্ষায় কোনো শর্ত মানে না। দেশ ও জনগণ স্বাধীন করতে গিয়ে আবু সাঈদ, মুগ্ধর মতো হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর প্রাণ দিতে হয়েছে। অংসখ্য শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতারা আহত হয়েছেন। ১৯৫২, ৭১ ও ৯০-এর মতো আরেকটি বিপ্লব অর্জন করেছেন ছাত্র-জনতা। তারা গণতন্ত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে জনগণ দেখেছে এক নতুন স্বাধীনতা। হাজারো জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনকে নষ্ট করতে দেশকে অস্থিতিশীল করতে আবারও ষড়যন্ত্র চলছে। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ জনগণের শত্রু নয়। বিনাভোটে নির্বাচিত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বাধ্য করেছেন। শেখ হাসিনা পালানোর পর বর্তমানে একটি চক্র সুকৌশলে পুলিশের মনোবল ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কারণ পুলিশকে অকার্যকর করা গেলে দেশে সহজে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে। অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারীরা এই মুহূর্তে পুলিশ বা ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা বন্ধ করুন।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপির নামে কেউ যদি অপকর্ম করতে চায় তাকেও আইনের হাতে তুলে দিন। কোনো পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের কাছে তা দাখিল করুন। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ লিপ্ত হয়ে বিচারের ভার দয়া করে নিজ হাতে তুলে নেবেন না। বরং দায়িত্বশীলতা ও মানবাধিকারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। সমালোচনা বা নৈরাজ্যের বদলে নৈরাজ্য সমাধান হতে পারে না। প্রশাসনকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণে নিয়োগ বা প্রমোশনে মেধার সর্বাধিক অগ্রাধিকার থাকতে হবে। উন্নয়নে বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। দেশে উৎপাদন ও বিদেশে রপ্তানি খাত বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের বেকার সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। বিদেশে শ্রমবাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্য ও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও বাস্তবায়ন করতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে আইনের শাসন অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার পতন ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লব সফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা স্থানান্তর করতে হবে। আসুন নাগরিক হিসেবে বিভেদ-বিরোধ, প্রতিহিংসা ভুলে দায়িত্বশীল আচরণ করি। সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করি। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার সবোর্চ্চ চেষ্টা করতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশ ও তারুণ্যের জন্য একটি নিরাপদ দেশ গড়ে তুলতে পারব।’
উচ্চকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনের প্রস্তাব কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘জ্ঞানী-গুণী ও বিজ্ঞদের নিয়ে গঠন করা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ও নীতি প্রণয়নে তাদের অন্তভুর্ক্ত করা হবে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ চালু করার প্রস্তাব করছে বিএনপি।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ, বেগম সেলিমা রহমান প্রমুখ।



