পুঁজিবাজারে সপ্তাহজুড়ে বাজার মূলধন উধাও ৩১ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা
আলমগীর হোসেন ও শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিললেও পুঁজিবাজার হাঁটছে উল্টো পথে। ফলে কিছুতেই থামছে না দরপতন, বরং ক্রমেই পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি আরও নাজুক হচ্ছে। যেখানে সরকার সহ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে। সেখানে টানা দরপতনের কারণ কী। এদিকে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও ব্যতিক্রম শুধু পুঁজিবাজার।
গত ১৩ মাসে পুঁজিবাজারের বৃদ্ধি তো দূরের কথা, উল্টো প্রতিদিনই কমছে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন। ফলে টানা দরপতনে বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর ফলে সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন হয়েছে।
সপ্তাহ জুড়ে সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে বাজার মূলধন ও টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ। এ সময়ে ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন কিছুটা কমলেও সিএসইতে বেড়েছে। তবে সপ্তাহজুড়ে উভয় পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন কমেছে ৩১ হাজার ৪০৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। ডিএসই ও সিএসই বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬ লাখ ৯৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে বাজার মূলধন ১৭ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা টাকা বা ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমেছে।
সপ্তাহটিতে টাকার পরিমাণে লেনদেন ৬৭৪ কোটি ৫২ লাখ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬১১ কোটি ১১ লাখ টাকায়। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ২৮৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
সপ্তাহটিতে ডিএসইর প্রধান সূচক ১৬৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১১৯ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৪৭ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৬৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৮৬ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৯৬৭ পয়েন্টে। সপ্তাহটিতে ডিএসইতে ৩৯৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৬ টি, দর কমেছে ৩২৬ টি এবং ১৪ টি শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সপ্তাহজুড়ে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৭৮.৮০ পয়েন্ট বা ৩.২০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৬৮ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ২.২৮ শতাংশ কমে ১২ হাজার ৬৮১ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ৩.১৫ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৮৯৮ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ৩.৬৬ শতাংশ কমে ৯১৩ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ১.৯৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪ হাজার ২২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১৩ হাজার ৫৬৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৬৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৫ কোটি ৩ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ৩০৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৪১টি, দর কমেছে ২৪৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টি শেয়ার ও ইউনিট দর।



