পুঁজিবাজারে প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ চান বিনিয়োগকারীরা
মোবারক হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুঁজিবাজার সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হয়। পুঁজিবাজারে সংস্কারের উদ্যোগে নতুন আশায় স্বপ্ন বুনতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রায় ১৪ মাস অতিবাহিত হতে চললেও বাজারে স্থিতিশীলতা আসেনি। বরং দিনের পর দিন যে সংকট রয়েছে, তা আরও ঘনীভূত হতে চলেছে।
এতে ডিএসইতে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। ফলে এমন পরিস্থিতিতে শূন্য হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও। পুঁজি হারিয়ে ‘নিঃস্ব’ হয়ে বাজার ছাড়তে শুরু করেছেন অনেক বিনিয়োগকারী। বিনিয়োগকারীদের আর্তনাদে মতিঝিলের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। গত ৩১ কার্যদিবসে টানা দরপতনে ডিএসইর ৫৮৭ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে। এতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হয়েছে। ফলে পুঁজি রক্ষায় বিনিয়োগকারীদের আর্তনাদ বাড়ছে। যদিও পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিষয়ে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ইতিপূর্বে বারবার তৎপরতা দেখিয়েছেন; কিন্তু তাতে করেও বিশেষ কোনো ফল লাভ হয়নি।
তারা করুনার সুরে বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্ঠা আমাদের বাঁচান। আমাদের পুঁজি শেষ। স্বপ্ন নিয়ে পুঁজিবাজারে এসে আজ আমরা নি:স্ব। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা প্রতিনিয়ত পুঁজি হারাচ্ছেন এবং অনেকে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছেন এমন দাবি করে পুঁজিবাজাওে টানা দরপতনে প্রধান উপদেষ্ঠার সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
পুঁজিবাজার ঐক্য পরিষদের এক নেতা বলেন, পুঁজিবাজারের প্রতি বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আস্থা একেবারে শূন্যের কোঠায়। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে সরকারকে। কলসির নিচে ফুটো থাকলে পানি যতই ঢালা হোক কলসি ভরবে না। কলসির ফুটোর মতো পুঁজিবাজারের টাকা বের হয়ে যাওয়ার ছিদ্রগুলো বন্ধ করতে হবে। তবেই বাজার দীর্ঘমেয়াদে ভালো হবে।
তিনি বলেন, দেশের এমন কোনো শিক্ষিত বেকার নেই, যে এই বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমনকি ঘরের শিক্ষিত গৃহিণীরাও পুঁজিবাজারের সঙ্গে জড়িত। যে বাজারের সঙ্গে এত মানুষের ভাগ্য জড়িত, সেই বাজারকে যে কোনো মূল্যে ইতিবাচক ধারায় রাখতে হবে। দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করতে হবে।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র পুঁজিবাজার আজ চরম হুমকিতে। বিনিয়োগকারীরা প্রতিনিয়ত তাদের পুঁজি হারাচ্ছেন। অনেক বিনিয়োগকারী এরই মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পুঁজিবাজার টানা দরপতন হলেও বাজার ইস্যুতে বিষয়টি নিয়ে কাউকে তেমন সিরিয়াস ভূমিকা গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপরও ক্ষোভ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে দেশের আর্থিক খাতের পুঁজিবাজার যে অন্তিম শয়ানে চলে যাবে, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।
শাহজালাল ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা আমাদের বাঁচান, আমরা নি:স্ব একথা টুকু একটু পত্রিকায় লিখেন। ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আজ আমার পুঁজি শেষ। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিক্রয় করলেও ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিক্রয় করতে পারি। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারে আছি। কিন্তু এমন খারাপ সময় কখনো দেখেননি বলেন তিনি।
স্টক বন্ডের বিনিয়োগকারী আকরাম হোসেন বলেন, পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের শেষ কোথায়। আজ এক বছরের বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজার দরপতন চলছে। আমাদের পুঁজি শেষ। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে আজ আমরা নি:স্ব। আগে বাজার খারাপ হলেও কিছুদিনের মধ্যেই আবার ঘুরে দাঁড়াত।
কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বাজার খারাপ যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দিনে দিনে বাজার খারাপ হতে হতে একদম খাদের কিনারে এসে ঠেকেছে। আমাদের পরিবারের মাঝে আজ আনন্দ নেই।



