শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে চলতি সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হলো। ফলে ডিভিডেন্ড মৌসুম শেষে ইপিএস চললেও দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন অব্যাহত রয়েছে।

বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কয়েকটি হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং একটি প্রভাবশালী মহলের কারসাজির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলস্বরূপ সূচক নেমে এসেছে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে।

এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ যোগ দেওয়ার পর পুঁজিবাজারের ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ)।

তারা অভিযোগের সুরে বলেন, ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গত ১৫ মাসের দরপতনে। ফলে টানা দরপতন হলেও নিশ্চুপ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কৌতুহলের শেষ নেই। বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন বর্তমান কমিশন কী বিনিয়োগকারীদের নি:স্ব করার দায়িত্ব নিয়েছে।

সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের সংগঠটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত জরিপে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের প্রতি অনাস্থা দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশের বেশি। তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ডিএসইর সূচক হারিয়েছে ৮১৫ পয়েন্ট। মুলত বর্তমান কমিশনের উপর অনাস্থার কারনে বাজারবিমুখ হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৬৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক.১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৪০ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০২ টির, দর কমেছে ২৫১ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭ টির। ডিএসইতে ৪১৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৬৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৮৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৫৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৫৯ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৯ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৭ টির এবং ১৩ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।