রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ না করলে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হবে না, নেপথ্যে আস্থা সংকট
আলমগীর হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে কারণ টানা ১০ কার্যদিবস দরপতনের পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালো আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। মুলত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে পুঁজিবাজারে দরপতনের প্রবণতা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ার তালিকা বড় হয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে। মূলত শেষদিকে বাজারে শেয়ার ক্রয়ের চাপে সূচকের উত্থান হয়েছে।
এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে লেনদেন কমে ২০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে গেছে। অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) দরপতনের তালিকায় রয়েছে বেশির ভাগ কোম্পানি। ফলে বাজারটিতে মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে সিএসইতে টানা ১১ কার্যদিবস সূচকের দরপতন হলো।
বাজার বিশ্লেষনে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ কোম্পানি। অধিকাংশ কোম্পানির দরপতন হওয়ার কারণে লেনদেনের এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৭৮ পয়েন্ট কমে যায়। ফলে আবারও ঢালাও দরপতনের শঙ্কা পেয়ে বসে বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু লেনদেনের শেষ ঘণ্টায় এসে বাজারের চিত্র বদলে যায়। এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী হঠাৎ শেয়ার ক্রয়ের আদেশ বাড়াতে থাকেন। ফলে দাম কমার তালিকা থেকে একের পর এক কোম্পানি বেরিয়ে আসে। এতে বড় পতন থেকে বেরিয়ে মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
এদিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে পদত্যাগের জন্য চার দিন সময় বেঁধে দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের ১০ সংগঠনের জোট। একীভূত (মার্জার) হওয়ার পথে থাকা পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য ঘোষণায় বাধা না দেওয়াসহ কয়েকটি দাবি পূরণে উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ এনে এ দাবি তুলেছে তারা।
বিনিয়োগকারী জোটের সমন্বয়ক এসএম ইকবাল হোসেন বলেন, রাশেদ মাকসুদ কমিশনে উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। গত ১৪ মাসে পুঁজিবাজারের বৃদ্ধি তো দূরের কথা, উল্টো প্রতিদিনই কমছে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন। বরং রাশেদ মাকসুদ কমিশনের ১৪ মাসে ডিএসই ১০৭৬ পয়েন্ট সূচকের উধাও হয়েছে। যার ফলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ করতে হবে। তাকে চার দিনের আল্টিমেটাম দিলাম, না সরলে আমরা আরও কঠিন কর্মসূচি দিব। এছাড়া রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ না করলে পুঁজিবাজার স্বাভাবিক হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জানা গেছে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের সাথে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৭৩২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৯৮৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৬০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৪০২ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৬ টির, দর কমেছে ১১৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫ টির। ডিএসইতে ২৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৯৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৯৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩২৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৪৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৪৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮২ টির এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



