শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ফিরিয়ে আনতে নীতি, আইন ও বিধিমালায় ঘন ঘন পরিবর্তন বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত নয়। সরকারের উচিত বিনিয়োগ সম্পর্কিত নীতিমালাগুলো স্থিতিশীল রাখা ও কোনো বিষয়ে পরিবর্তন আনা হবে না তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা। নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব।

কারণ ঘন ঘন নীতি মালা পরিবর্তন হলে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরে আসবে না বলে মনে করেন ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজারকে আরো গতিশীল ও আস্থাশীল করতে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের সরবরাহ, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং কর কাঠামোর সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বর্তমান পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীরা আস্থা সংকটে ভুগছেন। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, মানসম্মত অডিট রিপোর্ট ও তথ্যপ্রবাহে স্বচ্ছতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাশাপাশি ঘন ঘন পরিবর্তন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বিনিয়োগকারীরা আস্থা সংকটে ভুগছেন বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়েছে। তবে কিছুটা সূচকের উত্থান হলেও আস্থা সংকট কাটছে না। কারণ বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। এ অবস্থার মধ্যে দিয়ে বছরের পর বছর চলছে। তাই বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবী জানিয়ে আসছে।

ফলে সূচকের কিছুটা উত্থানে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৭ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও ও সিএসইতে কমেছে। যার ফলে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই ও সিএসইতে বাজার মূলধন বেড়েছে ১২ হাজার ৯৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সপ্তাহজুড়ে ডিএসই ও সিএসইর হালনাগাদ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই মূলধন ছিল ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১.১৬ শতাংশ বা ৭ হাজার ৮২০ কোটি টাকা।

চলতি সপ্তাহে বেড়েছে ডিএসইর সব কয়টি সূচকও। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৬৬.৩২ পয়েন্ট বা ৩.৫৪ শতাংশ। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ২৬.৫১ পয়েন্ট বা ১.৪৩ শতাংশ। আর ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ৪১.৩৩ পয়েন্ট বা ৪.২৩ শতাংশ। সূচকের উত্থানের পাশাপাশি ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৮৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭৭১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

এক সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে ২১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আর প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৪৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা বা ২৬.৮৫ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৩৫৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৬৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৪৭টি কোম্পানির, কমেছে ১৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সপ্তাহজুড়ে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০৯.৯২ পয়েন্ট বা ১.৭৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৪২ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ০.০৬ শতাংশ কমে ১২ হাজার ১৬৭ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ১.১৯ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৪১৮ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ২.০৬ শতাংশ বেড়ে ৮৬১ পয়েন্টে পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার ২৭৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৪৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ২৭৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৬টির, দর কমেছে ৬৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির শেয়ার ও ইউনিট দর।