আলমগীর হোসেনও শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সংস্কারের নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে না। ফলে টানা দরপতনের মুখে পড়েছে পুঁজিবাজার। আস্থাহীনতার কারণে পুঁজিবাজার থেকে কমছে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ। স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও নতুন বিনিয়োগ করছেন না। ফলে বাজারের গড় লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমেছে। যার কারণে কিছুতেই দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার।

তবে মাঝে মধ্যে কিছুটা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী দেখা মিলেও পরক্ষণেই আবার টানা দরপতন দেখা যাচ্ছে। এর ফলে আস্থা সংকটে ভুগছে বিনিয়োগকারীরা। সপ্তাহে একদিন বাড়ছে, টানা চারদিন কমছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তাছাড়া পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে বছরের পর বছর পার করছে বিনিয়োগকারীরা। ফলে দিন যত যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা তত ভারী হচ্ছে। লোকসান দিতে হতে বিনিয়োগকারীরা সর্বশান্ত হচ্ছেন। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যস্ত রয়েছেন সংস্কার ইস্যুতে। ফলে সূচকের টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তেমনি চলতি বছরের শুরু থেকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বাজার সংস্কারে নানা পদক্ষেপের কথা জানানো হলেও বাস্তবে কোনো উন্নতির দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতির কারণে বাজারে নতুন করে কেউ বিনিয়োগ করছে না। বাজারে থাকা বিদেশিরাও বিনিয়োগ কমাচ্ছে।

তবে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন আগের কার্যদিবসের চেয়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেন কমলেও সিএসইতে বেড়েছে। তবে উভয় পুঁজিবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলী বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তিনি মনে করছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুঁজিবাজারে সঠিক ভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে না। বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মিলে শেয়ার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দিয়ে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হবে না।

কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশের পুঁজিবাজার মানেই দরপতনের ইতিহাস। তবে যখন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংস্কার চলছে, অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার আভাস মিলছে তখন এমন দরপতন মেনে নেওয়া যায় না। অর্থনীতির বড় সংকটের মধ্যে থেকেও সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহায়তায় শ্রীলংকার পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে ব্যতিক্রম আমাদের পুঁজিবাজার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আস্থা ফেরাতে কর্তৃপক্ষ কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। উল্টো কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। যারা শেয়ার ধরে রেখেছিল তাদেরও শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এটা বাজারের জন্য বড় রকমের অশনিসংকেত। আমরা যারা বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা ভীত হয়ে পড়ছি। বাজার এখন মূল ট্র্যাক থেকে অফ ট্র্যাকে চলে গেছে। এখনি মূল ট্র্যাকে ফেরানো না যায় তাহলে পুঁজিবাজার নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো আশা থাকবে না।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯২৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৫ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৭ টির, দর কমেছে ১৭৪ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪ টির। ডিএসইতে ৫২৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১০৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১১ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭৯ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮২ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৯ টির এবং ১৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।