স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সরকার যে বীমা করপোরেশন আইন সংশোধনের খসড়া তৈরি করেছে, তাতে বিদেশি কোম্পানিও পুনঃবীমা করতে পারবে। তবে খসড়ায় আপত্তি জানিয়েছে সাধারণ বীমা করপোরেশন। তারা মনে করছে, বিদেশি কোম্পানির প্রবেশ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ক্ষয় ঘটাবে।

বর্তমানে দেশের সাধারণ বীমা করপোরেশন ‘বীমা কর্পোরেশন আইন, ২০১৯’ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে এবং তাৎক্ষণিক অর্থ পরিশোধের ক্ষমতা রাখতে, বীমা কোম্পানিগুলো সাধারণ বীমা গ্রহণের পর পুনঃবীমা করতে বাধ্য।

সংশোধিত খসড়ায় বলা হয়েছে, পুনঃবীমা করতে বাধ্যতামূলকভাবে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা করপোরেশনে করতে হবে না। বেসরকারি ও বিদেশি কোম্পানিও বেছে নেওয়া যাবে। তবে বিদেশি বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রেডিট রেটিং থাকতে হবে। সাধারণ বীমা করপোরেশন বছরে বড় অঙ্কের প্রিমিয়াম আয় করে, যা বর্তমানে দেশের একমাত্র পুনঃবীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপার্জিত।

২০২৪ সালে শুধুমাত্র পুনঃবীমা থেকে আয় হয়েছিল ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি। বিদেশি কোম্পানির প্রবেশ ঘটলে এই আয় ও কর-পরবর্তী ৪০০ কোটি টাকার নিট মুনাফায় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুন অর রশিদ।

বিমার দাবি পরিশোধে ঝুঁকি ভাগাভাগি করতে দেশের ৪৫টি সাধারণ বীমা কোম্পানি তাদের বীমার অর্ধেক ৫০ শতাংশ পুনঃবীমা করতে বাধ্য। বাকি অর্ধেক তারা চাইলে বিদেশি কোম্পানি বা সাধারণ বীমা করপোরেশনে করতে পারবে। সরকারি অর্থায়ন বা বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পুনঃবীমা করতে হয় সাধারণ বীমা করপোরেশনে।

আইন সংশোধন হলে, পুনঃবীমা করতে আর কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা হবে না। দেশি বা বিদেশি, যেকোনো কোম্পানির মাধ্যমে পুনঃবীমা করা যাবে। সরকারি-বিদেশি যৌথ প্রকল্পের পুনঃবীমাও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহীদ বলেন, দেশি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। যদি তারা ভালো সেবা দেয় এবং সময়মতো অর্থ পরিশোধ করতে পারে, তাহলে কেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দিকে যেতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এলেও সবাইকে সমান অধিকার দিতে হবে, কারো প্রতি বিশেষ ছাড় থাকা যাবে না। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ পড়বে। নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।

মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ জাহের মন্তব্য করেছেন, বর্তমানে সাধারণ বীমা করপোরেশনে পুনঃবীমা করতে হয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠান করবে কিনা, তা কোম্পানি ও গ্রাহকের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা ভালো সেবা দিবে, সবাই তার কাছেই যাবে