পুঁজিবাজারে সপ্তাহজুড়ে বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতনের বৃত্তে আটকে গেছে দেশের পুঁজিবাজার। দিন যতই যাচ্ছে লোকসানের পাল্লা ততই ভারী হচ্ছে। ক্রেতাশূন্য বাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দাম হু-হু করে কমছে, আর প্রতিদিনের পতনে বিনিয়োগকারীর ক্ষতির বোঝা ক্রমেই ভারী হচ্ছে। ফলে টানা পতনের ধাক্কায় সিংহভাগ পুঁজি হারিয়ে বিনিয়োগকারীদের নাভিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তবে এরই মধ্যে নির্বাচন ইস্যুতে তারেক রহমানের দেশে ফেরায় নির্বাচনের সকল আকঙ্ক কাটছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা হঠাৎ করে পুঁজিবাজারের এহেন আচরণের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের মতে, অর্থনীতির সব সূচক এ মুহূর্তে ভালোর দিকে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ক্রমেই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের কারণ কী এ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত।
তাছাড়া ২০১০ সালের ক্ষত গত ১৫ বছরে শুকাতে না পারলেও ২০২৫ ধসে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ফলে ২০১০ সালের বড় ধসের পর পুঁজিবাজার আর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল বাজার এক সময় ঘুরে দাঁড়াবে, হারানো মূলধন মুনাফাসহ ফেরত আসবে। কিন্তু বাস্তবে লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে।
ফলে সপ্তাহজুড়ে সূচকের উত্থানে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে। সপ্তাহটিতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। এ সময়ে ডিএসইতে লেনদেন কমলেও সিএসইতে বেড়েছে। এদিকে সপ্তাহজুড়ে উভয় পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৩০৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ডিএসইর বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ১ হাজার ৭ কোটি টাকা বা দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ১ হাজার ৪৩৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন১১৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বেড়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৮৩ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৮৮২ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৬ টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২৪১ টির, কমেছে ১০১ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৮.২০ পয়েন্ট বা ০.১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৪২ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ০.৪৭ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ১৪৭ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ০.০৭ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৪০৯ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ০.১৭ শতাংশ কমে ৮৫৬ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ০.৬০ বেড়ে ১ হাজার ৬৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। টাকায়।
অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ২৯৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ২১ কোটি ২০ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ২৫৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৩টির, দর কমেছে ১২৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির শেয়ার ও ইউনিট দর।



