রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটলে স্বাভাবিক হবে পুঁজিবাজার, লেনদেনে ভাটা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পুঁজিবাজারে অনিশ্চয়তা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছে না। এর ফলে কমেছে প্রধান মূল্যসূচক, সঙ্কুচিত হয়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
ফলে চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে পতনের এই চিত্র বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। যার কারণে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেনের শেষদিকে তা পতনে রূপ নেয়। ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সকাল থেকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে ডিএসইএক্স সূচকের উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। তবে লেনদেন শেষ হওয়ার ২০ মিনিট আগে তা পতনমুখী হয়ে যায়। লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তা পতনমুখী অবস্থায় ছিল।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলী কাজী বলেন, দেশের চলমান বাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বাভাবিক হতে পারছে না পুঁজিবাজার। তৈরি হয়েছে আস্থার সঙ্কট। এমনই আস্থার সংকট কাটছে না তার মধ্যে বাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় নতুন করে দু:চিন্তায় পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। মুলত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে দেশে ভালোভাবে নির্বাচনী আবহ তৈরি হলে আস্থার সঙ্কট কেটে যেতে পারে। তখন আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে পুঁজিবাজার। মানুষ আবার পুঁজিবাজারমুখী হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এখনো স্পষ্ট। ফলে আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রার্থী মনোনয়ন ও রাজনৈতিক হিসাব নিকাশে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ আপাতত শেয়ার ক্রয় বিক্রয় থেকে দুরে রয়েছে। ফলে সূচকের সাথে কমেছে লেনদেন। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্টতা না আসা পর্যন্ত বাজারে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না অনেকেই। এর ফলেই লেনদেন কমছে। তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক গতি ফিরবে বলে তারা মনে করেন।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮৬১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯৯৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৫৭ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪২ টির, দর কমেছে ১৫৫ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৯৩ টির। ডিএসইতে ৩০৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭৫ কোটি ১২ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৮৫ কোটি ৮ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬১৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৪৭ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৪৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৩ টির এবং ২৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



