এসকে ট্রিমসের নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা, বাড়ছে লোকসান
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বিবিধ খাতের এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৩০ জুন, ২০২৫ সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৩৩ পয়সা। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ০৩ পয়সায়।
এসকে ট্রিমসের পরিচালক পর্ষদ মুলতবি বার্ষিক সাধারণ সভাগুলো (এজিএম) আহ্বান করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি/আদেশ চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইকোর্ট বিভাগ থেকে অনুমোদন/আদেশ প্রাপ্তির সাথে সাথেই কোম্পানি সংশ্লিষ্ট এজিএম-এর সঠিক তারিখ, সময় এবং স্থান সম্পর্কে শেয়ারহোল্ডারদের অবহিত করবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে এসকে ট্রিমসের ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। ২০২১ সালেও কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এরপরের বছরগুলোতে লভ্যাংশের হার কিছুটা কমে যথাক্রমে ৪ শতাংশ ও ৩ শতাংশে নামলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডাররা ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসে লভ্যাংশের সেই চাকা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেল।
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিগত অর্থবছরে যেখানে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ৫৪ পয়সা লাভ, সেখানে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে তা বড় ধরণের ধসে রূপ নিয়েছে। বছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৩৩ পয়সা। আয়ের এই ধসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কোম্পানির প্রকৃত সম্পদ মূল্যের ওপরও।
গত বছর যেখানে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য বা ন্যাভ ছিল ১৫ টাকা ৬৫ পয়সা, এবার তা কমে ১২ টাকা ৩ পয়সায় নেমে এসেছে। একই সাথে কোম্পানির ব্যবসায়িক নগদ প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লোতেও বড় ধরণের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত বছর শেয়ার প্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ৯০ পয়সা উদ্বৃত্ত থাকলেও এবার তা ২৫ পয়সা ঋণাত্মক বা ঘাটতিতে রূপ নিয়েছে।
ব্যবসায়িক এই মন্দাভাব চলতি বছরের সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনেও স্পষ্ট। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসের সার্বিক হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভ ছিল।
শুধু জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের তিন মাসের প্রান্তিক হিসাব বিবেচনা করলেও দেখা যায়, যেখানে আগের বছর ৩৮ পয়সা লাভ হয়েছিল, সেখানে এবার লোকসান হয়েছে ৯০ পয়সা। এই ৯ মাসে কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১৫ টাকা ৫২ পয়সা থেকে কমে ১৩ টাকা ১১ পয়সায় নেমে এসেছে এবং নগদ প্রবাহেও বড় ধরণের ঘাটতি দেখা গেছে।



