আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: প্রথমবারের মতো পঞ্চাশ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। আলোচনা চলছে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো ও দফতর পুনর্বিন্যাস নিয়েও। এর আগে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে। এবারেরটাও ধীরে ধীরে বাড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এটা কোনো বিচিত্র ব্যাপার না, খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। মানে সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু তার মানে এই না যে, এটা হবেই বা এখন হবে কিংবা তখন হবে। এগুলো নিয়ে কথা বলার ক্ষমতা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যখন উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, তখন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন বা কারও থেকে দায়িত্ব নিতে পারেন।

সরকারের সার্বিক কার্যক্রমে আরও গতি আনতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১০০ দিন পার হওয়ার পরপরই নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ৭ জুন অনুষ্ঠেয় বাজেট অধিবেশনের আগেই অন্তত পাঁচজনকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সরকার ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্য জানা গেছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। একই দিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আরও ৪৯ জন। সরকারের শুরুর সময়ে প্রশাসনিক সমন্বয় ধরে রাখতে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দুই থেকে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

এমন অবস্থায় নতুন পাঁচ মুখকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনেকটাই চূড়ান্ত করা হয়েছে। যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন: পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। এ ছাড়া নোয়াখালী অঞ্চল থেকে আরও একজনকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শুধু সময় ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। সবকিছু ঠিক থাকলে বাজেট অধিবেশনের আগেই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ হতে পারে।

সরকারের একজন উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রথম ১০০ দিন পার হওয়ার পর সরকার এখন ‘বাস্তবায়ন ও ফল দেখানো’র দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এজন্য মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। দায়িত্ব ভাগ হলে কাজের গতি বাড়বে। সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বললেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল বা পরিবর্তনের ব্যাপারটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী বিষয়।

জানা গেছে, বর্তমানে যেসব মন্ত্রীর অধীনে দুই বা তিনটি মন্ত্রণালয় রয়েছে, তাদের দায়িত্বের ভার কমানো হবে। এক্ষেত্রে একটি রেখে অতিরিক্ত মন্ত্রণালয়গুলো নতুনদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। এটিকে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমে এসেছে নানা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিস্তার, কৃষি খাতে বেশ কিছু উদ্যোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তদারকিতে।

তবে পর্যবেক্ষকদের অভিমত, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে এখনো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততা বেশি দৃশ্যমান। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মন্ত্রীদের ভূমিকা তাই আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠছে। এমন বাস্তবতায় মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত করার বিষয়টি সরকারের পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।