মার্জিন ঋণ নতুন প্রস্তাবে পুঁজিবাজারে সুচকের বড় দরপতন
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে পুঁজিবাজারে তারল্য ও লেনদেনের গতি বাড়াতে মার্জিন ঋণের নিয়মকানুন শিথিল করার পথে হেঁটেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কিন্তু নতুন খসড়ায় সংযোজিত ‘পিবি রেশিও’ বা প্রাইস টু বুক ভ্যালু শর্তটি উল্টো বীমা খাতের শেযারে বেশিরভাগ কোম্পানির জন্য মার্জিন ঋণ সুবিধা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় পুঁজিবাজারে সূচকের বড় দরপতন হয়েছে।
এছাড়া নতুন কমিশন গঠনের পর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সবচেয়ে বেশি সূচকের পতন হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে হতাশা থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এই পতনকে স্বাভাবিক মূল্যসংশোধন বলছেন। তবে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা সূচকের দরপতনকে কারসাজি বলে মনে করছেন। গত দুই কার্যদিবস মিলে ডিএসই এক্স সূচকের পতন হয়েছে ৯৪ পয়েন্ট। তবে গত সপ্তাহ সূচকের ঊর্ধ্বমূখী থাকলেও সূচকের এতটা বৃদ্ধি ছিল না। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের আশ্বাস বাণী শুনে আমরা আবার পুঁজিবাজারে ফিরতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি আমাদের হতাশ করছে। নতুন কমিশন গঠনের পর বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও আবার যে পতন ঘটল তাতে পুঁজি নিয়ে বাজার থেকে বের হওয়ায় আমাদের কঠিন হয়ে পড়বে। আমাদের আশঙ্কা বাজারে কারসাজি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটার মতো কোনো নেতিবাচক ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং দেশের অর্থনীতিও আগের চেয়ে ধীরে ধীরে ভালো করছে। এই মুহূর্তে বাজারে দরপতন ঘটার মতো কোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক বড় সংকট তৈরি হয়নি।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৯২ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৯ টির, দর কমেছে ৩১০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০ টির।ডিএসইতে ৯৩৮কোটি ৮৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৭২ কোটি ২৫ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২১১ কোটি ১৩ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬২০ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৬২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫৪ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৮৬ টির এবং ২২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২০ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



