ডিএসইর ছাঁটাই হওয়া সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালের দাবি
মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিতে পুনর্বহাল ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত এবং ছাঁটাই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। আজ রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরোনো ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাবি করেন, যথাযথ কারণ ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের অনেককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের দাবি, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, দেশের প্রধান পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিএসইর কার্যক্রমের সঙ্গে লাখো বিনিয়োগকারীর স্বার্থ জড়িত। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের চাকরিচ্যুতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তা প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, অভিযোগের সত্যতা থাকলে তা শুধু চাকরিচ্যুত কয়েকজন কর্মীর বিষয় নয়; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি ও সুশাসনের বিষয়ও সামনে আসে। আবার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যদি আইনসম্মত হয়ে থাকে, তাহলে সেটিও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা উচিত, যাতে এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে ডিএসইতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার প্রভাব সামগ্রিক পুঁজিবাজারেও পড়তে পারে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সরকারের প্রতি দ্রুত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত ও পুনর্বহালের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে জনমনে সৃষ্ট সংশয় দূর করার আহ্বান জানান তারা।
ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত মো. আব্দুল লতিফ বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া এক আবেদনে দাবি করেছেন, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৬ এপ্রিল তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও জবাব দেওয়ার পর ১৮ জুন ডিএসই কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানায়, তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
তবে এর মাত্র এক সপ্তাহ পর, ২৫ জুন, নতুন কোনো অভিযোগ বা তদন্ত ছাড়াই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে শুধু ‘পদের প্রয়োজন নেই’ উল্লেখ করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের স্থায়ী কর্মকর্তার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন। লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত ২৩ জুলাই এক চিঠিতে ডিএসইর এ ধরনের চাকরিচ্যুতিকে ‘বেআইনি ও একতরফা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে নির্দেশনা দিয়েছে।



