পুঁজিবাজারে এসএমইতে বিনিয়োগ লাগবে ৩০ লাখ টাকা, কিউআইওতে ১০ লাখ
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে এসএমই (স্মল ক্যাপিটাল) প্ল্যাটফর্মের সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার লেনদেন ও কিউআইও-সংক্রান্ত বিনিয়োগ সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসএমইর সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার লেনদেনের জন্য ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকার পোর্টফোলিও থাকার শর্ত বহাল রেখেছে কমিশন।
তবে ওই প্ল্যাটফর্মে কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) আবেদন এবং ওই অফারের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ লাখ টাকার পোর্টফোলিও থাকলেই যথেষ্ট হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বিএসইসি।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। রিট পিটিশন নম্বর ১৪৬৮৪ (২০২৫)-এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশ এবং আবেদনকারী মো. জামাল হোসেনের ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিটি ইস্যু করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশনার আলোকে আবেদনটি নিষ্পত্তির অধিকতর ব্যাখ্যা হিসেবেই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, কমিশন গত ১৯ মে একটি নির্দেশনা জারি করে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ক্ষুদ্র মূলধনী কোম্পানির যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রস্তাব) বিধিমালা-২০২২ এর বিধি ২(১)(গ)-এ বর্ণিত ‘যোগ্য বিনিয়োগকারী’র সংজ্ঞা বাস্তবায়নের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, এসএমই প্ল্যাটফর্মে কিউআইওতে আবেদন এবং ওই আবেদনে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিক্রয়ের জন্য ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর ন্যূনতম ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগযোগ্য পোর্টফোলিও থাকলেই হবে।
অন্যদিকে কিউআইওতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার ছাড়া এসএমই প্ল্যাটফর্মের অন্য যেকোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে নিয়মিত কেনাবেচার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগযোগ্য পোর্টফোলিও থাকতে হবে। কমিশনের ভাষ্য, গত ১৯ মে জারি করা নির্দেশনার মাধ্যমে এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে এবং এ শর্ত আগের মতোই কার্যকর রয়েছে।
জানা গেছে, কিউআইওতে অংশগ্রহণ এবং ওই অফারের মাধ্যমে পাওয়া শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রেও ৩০ লাখ টাকার পোর্টফোলিও প্রয়োজন কি না এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্তি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারী মো. জামাল হোসেন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশনার পর কমিশন বিদ্যমান বিধিমালা ও নির্দেশনার আলোকে পৃথকভাবে কিউআইও এবং সেকেন্ডারি মার্কেটের লেনদেনের শর্ত ব্যাখ্যা করে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিএসইসির এ ব্যাখ্যার ফলে এসএমই প্ল্যাটফর্মে কিউআইওতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা অনেকটাই দূর হবে। ফলে ১০ লাখ টাকার পোর্টফোলিওধারী ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা কিউআইওতে আবেদন করতে এবং বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার লেনদেন করতে পারবেন। তবে কিউআইওর বাইরে এসএমই প্ল্যাটফর্মের অন্যান্য শেয়ারে নিয়মিত লেনদেনের জন্য ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগযোগ্য পোর্টফোলিও থাকার শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে। কমিশনের এ ব্যাখ্যা এসএমই প্ল্যাটফর্মের বিধান বাস্তবায়নে স্পষ্টতা আনবে এবং বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সহায়ক হবে।
মুলত ২০২১ সালে পুঁজিবাজারে এসএমই প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরুর সময় সর্বপ্রথম ন্যূনতম বিনিয়োগের সীমা ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে ঝুঁঁকির মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় সাধারণ খুচরা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এই উচ্চ বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা বা এন্ট্রি ব্যারিয়ার তৈরি করে ছিল।
পরবর্তীতে বাজারের লেনদেনে গতি আনা এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে এই সীমাতে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন আনা হয়। ২০২১ সালের শুরুতে প্রথম চালুর সময় কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর হতে পুঁজিবাজারে সর্বনিম্ন পোর্টফোলিও বা বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ছিল ৫০ লাখ টাকা।
এরপর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে লেনদেনে স্থবিরতা কাটাতে এবং তারল্য বাড়াতে এই সীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে এক ধাক্কায় কমিয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়। পরবর্তীতে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ অতিরিক্ত বাড়ায় এবং শেয়ারের ব্যাপক দর ওঠানামার ঝুঁকি বিবেচনায় এই সীমা পুনরায় বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকা করা হয়।



