দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের সুপারব্র্যান্ড ও টেক জায়ান্ট প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ব্যবসায় মন্দার চিত্র দেখা দিয়েছে। এক বছরে কোম্পানিটির বিক্রি কমেছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে নিট মুনাফা কমেছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বিক্রি কমার পাশাপাশি বেড়েছে বিক্রয় ও বিতরণ ব্যয়। ডলার সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামায় কোম্পানিটির প্রায় ১২৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। কোম্পানিটির ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ওয়ালটনের নিট বিক্রয় ছিল ৭ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে বিক্রি কমেছে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। বিক্রির পাশাপাশি কোম্পানিটির মুনাফাতেও বড় পতন হয়েছে।

২০২৪ সালে ওয়ালটনের নিট মুনাফা ছিল ১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে হয়েছে ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে নিট মুনাফা কমেছে প্রায় ৩২০ কোটি টাকা বা ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বিক্রি কমলেও বিক্রয় ও বিতরণ ব্যয় কমেনি। বরং ২০২৪ সালে এ খাতে ৮২৯ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে এই ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৭২ কোটি টাকা।

ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাবের কারণ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেছে ওয়ালটন। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। এতে বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এ ছাড়া ডলার সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে কোম্পানিটি প্রায় ১২৩ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে। ওয়ালটনের আর্থিক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। অডিটর এটিকে ‘কী অডিট ম্যাটার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির বিক্রয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গেছে সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজা ও ডব্লিউইএস প্লাজার কাছে।

অডিটরের এমন পর্যবেক্ষণের কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কোম্পানিটির লেনদেন বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। ব্যবসায় মন্দার আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় কোম্পানিটির মজুদ পণ্যে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে ওয়ালটনের মজুদ পণ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা।

এদিকে কোম্পানিটির নগদ প্রবাহেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালে নগদ ও নগদ সমতুল্যের নিট বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৪১৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা ঋণাত্মক হয়ে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকার নিট হ্রাসে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে কোম্পানিটির নগদ অবস্থানে চাপ বেড়েছে। ব্যবসা ও মুনাফায় পতনের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ওয়ালটন।

২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ালটন হাই-টেকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৬৭ দশমিক ০৯ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ০ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ০ দশমিক ০৪ শতাংশ শেয়ার। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।