ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ভ্যাট ফাঁকির নয়া কৌশল
বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বাজেট ঘোষণার দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের তামাক কোম্পানিগুলো এখনো পুরনো দামের সিগারেট নতুন দামে বিক্রি করে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা। তাদের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রজ্ঞাপনে পুরনো প্যাকেটে নতুন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) সিল দিয়ে বাজারজাত করার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। এনবিআর ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিষয়টি জেনেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেডের (বিএটিবি) কাছে ২০১৬ সালের অপরিশোধিত সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকি বাবদ ২০২৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা আদায়ে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মামলাটিকে ৫০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্বসংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের পথ খুলতে পারে।
বিপুল অঙ্কের রাজস্ব দাবি ঘিরে বিএটিবির দায়ের করা রিট মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে চিঠি দিয়েছে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)-ভ্যাট। চিঠিতে মামলাটির দ্রুত শুনানি নিয়ে নিষ্পত্তির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
ফলে প্রতি বছর বাজেটের পর দেশে ব্যবসা করা কোম্পানিগুলো নতুন প্যাকেট তৈরিতে এক ধরনের শুভংকরের ফাঁকি দেয়। জাতীয় বাজেটে নির্ধারিত সিগারেটের নতুন মূল্যস্তর অনুযায়ী প্যাকেট তৈরিতে সময়ক্ষেপণ করে। এই সময় বাজারে পুরোনো সিগারেট বাড়তি দামে বিক্রি হয়। এতে সরকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারায়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন মূল্যস্তর নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও দেশের দুই বৃহৎ সিগারেট কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড ও জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।
দেশের আইন অনুযায়ী, সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে দেওয়া সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই। কিন্তু কোম্পানি দুটির সিগারেটের ক্ষেত্রে বাজারে তা পরিপালন হচ্ছে না। যার প্রমাণ পেয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ফলে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ও হাইস্পিড মেশিনে সিগারেট উৎপাদনের সময় প্যাকেটে সংযোজন করা হয় ব্যান্ডরোল বা ট্যাক্স স্ট্যাম্প। অত্যাধুনিক মেশিনে সংযোজনের কারণে এসব স্ট্যাম্প নষ্ট বা অপচয়ের সম্ভাবনা খুবই কম। এ কারণে আইনে নির্দিষ্ট হারে অপচয় গ্রহণযোগ্য হলেও সেই সুযোগের অপব্যবহার করে ভালো ব্যান্ডরোলকে ‘নষ্ট’ দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেডের (বিএটি) বিরুদ্ধে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) বলছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন— তিন মাসে স্ট্যাম্প অপচয় দেখিয়ে বিএটি ২৩ কোটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার ২১ টাকা মূসক ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। এর আগে তৈরি করা প্রতিবেদনে ফাঁকির পরিমাণ ২৩ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ টাকা ধরা হলেও পরবর্তী যাচাইয়ে কিছু করণিক ত্রুটি ও স্ট্যাম্প ব্যবহারের পরিমাণ সংশোধনের পর তা কমে আসে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ডার্বি, পাইলট, হলিউড, রয়্যালস, স্টার, ক্যাপস্টান, লাকি স্ট্রাইক, গোল্ডলিফ ও মার্লবোরো বিএটির বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটে অস্বাভাবিক হারে স্ট্যাম্প অপচয় দেখানো হয়েছে। তিন মাসের হিসাবে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা রাজস্ব ফাঁকির হিসাব পাওয়া গেছে। একই হারে অপচয় দেখানো হলে এক বছরে ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ৯৩ কোটি টাকা হতে পারে।
এলটিইউর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, উৎপাদিত বা আমদানিকৃত তামাকযুক্ত সিগারেটের মূল্য নির্ধারণসহ প্যাকেটে স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার পদ্ধতি বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধি-১১-এর উপবিধি (৬) অনুযায়ী স্ট্যাম্প ব্যবহারের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ শলাকার হালকা মেরুন স্ট্যাম্প-২০ বা উচ্চস্তরের সিগারেটে অপচয়ের হার দেখানো হয়েছে ৯ দশমিক ২২ শতাংশ।
এ স্তরের বিএটির ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে গোল্ডলিফ ও মার্লবোরো। হালকা সবুজ স্ট্যাম্প-২০ বা নিম্ন ও মধ্যমস্তরের সিগারেটে অপচয় দেখানো হয়েছে ২৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ স্তরের ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে স্টার, ক্যাপস্টান, লাকি স্ট্রাইক ও সিসরস; নিম্নস্তরের ব্র্যান্ড ডার্বি, পাইলট, হলিউড ও রয়্যালস। অন্যদিকে হালকা খয়েরি-১০ স্ট্যাম্পযুক্ত সিগারেটে অপচয় দেখানো হয়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।
তিন মাসে বিএটি হালকা মেরুন, হালকা নীল, হালকা সবুজ ও হালকা খয়েরি—এই চার ধরনের স্ট্যাম্প ব্যবহার করেছে ৩২ কোটি ৯২ লাখ ৫৯ হাজার। এর বিপরীতে অপচয় দেখানো হয়েছে ৫৬ লাখ ৭ হাজার ৮৮৩টি, যা মোট ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। এলটিইউর হিসাবে, ৩৭০ টাকা মূল্যের সিগারেট ব্র্যান্ডে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৪২৩টি স্ট্যাম্প অতিরিক্ত অপচয় দেখানো হয়েছে। এসব স্ট্যাম্পের মূল্য ১০ কোটি ৫৯ লাখ ৭৬ হাজার ৫১০ টাকা এবং প্রযোজ্য মূসক ও সম্পূরক শুল্ক ৮ কোটি ৬৯ লাখ ৭৩৮ টাকা।
২৮০ টাকা মূল্যের ব্র্যান্ডে অতিরিক্ত অপচয় দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ২৪০টি স্ট্যাম্প। এতে মূসক ও সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ ৬৯ লাখ ৪৩ হাজার ১০৪ টাকা। ১৬৮ টাকা মূল্যের ব্র্যান্ডে ১৭ হাজার ৫৬০টি স্ট্যাম্প অপচয় দেখিয়ে ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৬৬ টাকা এবং ৯০ টাকা মূল্যের ব্র্যান্ডে ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫১টি স্ট্যাম্প অপচয় দেখিয়ে ১ কোটি ৬২ লাখ ১৭ হাজার ৬২৪ টাকা মূসক ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকির হিসাব পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি স্ট্যাম্প অপচয় দেখানো হয়েছে ৬৩ টাকা মূল্যের সিগারেট ব্র্যান্ডে। এ ক্ষেত্রে ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩৫টি স্ট্যাম্প নষ্ট দেখিয়ে ১২ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৯০ টাকা মূসক ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার হিসাব করা হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরির পর স্ট্যাম্প অপচয়ের হার যাচাই করতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর একটি কমিটি গঠন করে এলটিইউ। কমিটি বিএটির সাভার কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ওই তিন মাসে নষ্ট বা অপচয় দেখানো স্ট্যাম্প যাচাই করে। পরিদর্শনের সময় বিএটি কর্তৃপক্ষ কিছু কার্টন দেখিয়ে দাবি করে, অপচয় বা নষ্ট হওয়া স্ট্যাম্প সেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে কমিটির সদস্যরা কার্টন খুলে কিছু স্ট্যাম্পকে প্রায় নতুন অবস্থায় দেখতে পান। কিছু স্ট্যাম্প প্যাকেট থেকে সদ্য খোলা বলেও প্রতীয়মান হয়।
বিএটির প্রতিনিধিরা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে কিছু স্ট্যাম্প নষ্ট হয়, আবার কিছু স্ট্যাম্প প্যাকেটের গায়ে ঠিকমতো না লাগায় নষ্ট হিসেবে গণ্য হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কারখানায় শ্রমিক আন্দোলনের কারণে কিছু স্ট্যাম্প পড়ে নষ্ট হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণক দিতে পারেনি বিএটি। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের পরিমাণ পুনরায় যাচাইয়ে কিছুটা বেশি পাওয়া যায় এবং অপচয়ের পরিমাণ কিছুটা কমে আসে। ফলে সংশোধিত হিসাবে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩ কোটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার ২১ টাকা।
সূত্র জানায়, সিগারেটের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন মূল্যস্তর নির্ধারণ করেছে এনবিআর। আর সিগারেট বিক্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না বলেও আইন পাস হয়েছে। কিন্তু বাজেটের দুই মাস পরও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর সিগারেট বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিন যার প্রমাণ পেয়েছেন ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সাধারণত সিগারেট বিপণনের সময় সর্বশেষ খুচরা মূল্যের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
সংসদে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, খুচরা মূল্যের অধিক দামে কোনো পর্যায়েই সিগারেট বিক্রি করা যাবে না বলেও ভ্যাট গোয়েন্দার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বিগত অর্থবছরের মুদ্রিত প্যাকেট ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো নতুন মূল্যস্তরের দামে বিক্রি করছে। যা আইনের পরিপন্থি বলেও জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
তবে সংস্থাটির মহাপরিচালক বাড়তি দামে বিক্রির কারণে সরকারের ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট, এলটিইউকে (ভ্যাট) চিঠি দিয়েছেন। কারণ এলটিইউ ভ্যাটের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ পিএলসি এবং জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ভ্যাট বাস্তবায়ন ও ভ্যাট পলিসির সদস্যকে অনুলিপি দিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যাট পলিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. আজিজুর রহমান বলেন, সিগারেট কোম্পানির রাজস্ব সংক্রান্ত একটি চিঠি ভ্যাট গোয়েন্দা থেকে এলটিইউ ভ্যাটকে দেওয়া হয়েছে। এই চিঠির অনুলিপি ভ্যাট পলিসিকেও দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান এনবিআরের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এদিকে শেয়ারহোল্ডারদের ঠকিয়ে ইতিহাসে সর্বনিম্ন লভ্যাংশ দিচ্ছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বিএনটি। কোম্পানিটি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে। অর্থাৎ, শেয়ারহোল্ডাররা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৩ টাকা লভ্যাংশ পাবেন,
যা কোম্পানির ইতিহাসে সবচেয়ে কম। তবে এর আগে ২০২৪ সালে নগদ ৩০০ শতাংশ, ২০২৩ সালে নগদ ১০০ শতাংশ, ২০২২ সালে নগদ ২০০ শতাংশ, ২০২১ সালে নগদ ২৭৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালে নগদ ৬০০ শতাংশ ও ২০০ শতাংশ বোনাস শেয়ারে লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো।
১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৪ কোটি। এর মধ্যে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।
এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ শেয়ার আছে। আর শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের হাতে রয়েছে।



