দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বাজার প্রস্তুতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ২০২৮ সালের মধ্যে ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির কমিশনার মো. নাফিজ আল তারেক।

তিনি বলেন, ডেরিভেটিভস চালুর বিষয়ে কমিশন ইতিবাচক। তবে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া এ ধরনের আর্থিক পণ্য চালু হলে বাজারে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ডেরিভেটিভস চালুর আগে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

আজ সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত ‘এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে আর্থিক ডেরিভেটিভস প্রবর্তন বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে সচেতনতা ও পরামর্শমূলক কর্মসূচি’তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাফিজ আল তারেক বলেন, ডেরিভেটিভস চালুর জন্য বিদ্যমান বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি (সিসিপি) ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিসিপি কার্যকর না হলে ডেরিভেটিভস কার্যক্রম চালু করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে ব্রোকার, ট্রেডারসহ বাজারের অন্যান্য অংশীজনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে।দ

বিএসইসির কমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় ফিউচারস মার্কেট বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও হেজিংয়ের সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে বাজারের তারল্য ও অস্থিরতার ঝুঁকি মোকাবিলায় ডেরিভেটিভস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, ডেরিভেটিভস চালুর ক্ষেত্রে কমিশন, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিসিবিএল এবং বাজারের অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিধিমালা, অবকাঠামো ও সক্ষমতা নিশ্চিত করেই ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসইর মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের জানান, ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর পরিকল্পনা করছে ডিএসই। এ জন্য প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও অংশীজনদের প্রস্তুতির বিষয়ে একটি কৌশল ও অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে বিএসইসির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রথম ধাপে ডিএসইর নিজস্ব সূচকভিত্তিক স্টক ইনডেক্স ফিউচারস, পরবর্তী ধাপে সিঙ্গেল স্টক ডেলিভারেবল ফিউচারস এবং দীর্ঘমেয়াদে অপশনস মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভসের মধ্যে বিশেষ করে ইনডেক্স ডেরিভেটিভস ক্যাশ সেটেলমেন্টের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে সহজে চালু করা সম্ভব। তবে এর সফল বাস্তবায়নে শক্তিশালী রেগুলেটরি, প্রযুক্তিগত, ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রয়োজন।

তিনি জানান, ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ের উপযোগী প্ল্যাটফর্ম, সিসিপি, রিয়েল-টাইম মার্জিনিং, পজিশন মনিটরিং এবং মার্ক-টু-মার্কেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে নতুন আর্থিক পণ্য প্রবর্তনের উদ্যোগ দেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। কর্মসূচিতে শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অংশ নেন।