বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধে টালবাহানা করছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। এমনকি বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্দেশের পরও কোম্পানিটি হামবুর্গভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জার্বান ফাইবার্স লিমিটেডের দাবির টাকা পরিশোধ করেনি। ফলে বীমা আইন ও আইডিআরএ’র নির্দেশ লঙ্ঘন করছে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। দীর্ঘ ৩ বছর ঝুলিয়ে রাখার পর পণ্য পরিবহনকারী জাহাজের বিরুদ্ধে গ্রাহকের মামলা না করার অজুহাতে দাবিটি প্রত্যাখ্যান করে বীমা কোম্পানিটি।

তবে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের বীমা দাবি প্রত্যাখ্যানের এমন সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ, অকার্যকর এবং পরম বিশ্বাসের নীতির পরিপন্থী বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি। একইসঙ্গে বিলম্বের শাস্তিস্বরূপ সুদসহ গ্রাহকের সম্পূর্ণ বীমা দাবি পরিশোধে কোম্পানিটিকে ৩০ দিনের সময় বেধে দিয়েছে সংস্থাটি। তবে গত ১১ জুন নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেয়া এমন নির্দেশের পরও জার্বান ফাইবার্সের বীমা দাবিটি এখনো পরিশোধ করেনি স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘জেনারেল এভারেজ’ দাবি নাকচ করার মতো ঘটনা বীমা খাতে নজিরবিহীন এবং এটি বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা বহন করছে। বীমা আইন ও আইডিআরএর নির্দেশনা লঙ্ঘন করে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের এ ধরনের কার্যক্রম সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও জনআস্থার পরিপন্থী। মুলত অগ্নিবীমায় অনিয়ম ও পুনর্বীমা না করার অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৭ জুন স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের লাইসেন্স স্থগিত করে আইডিআরএ।

তবে স্থগিতাদেশ চলাকালীনও আইন অমান্য করায় একই বছরের ১০ নভেম্বর কোম্পানিটির লাইসেন্স বাতিল করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের আইনি প্রক্রিয়া ও শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ব্যবসার অনুমতি ফিরে পায় স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স।

জার্মানি ও বাংলাদেশ ভিত্তিক যৌথ মালিকানাধীন পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প প্রতিষ্ঠান জার্বান ফাইবার্স লিমিটেড মূলত পাট ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক তন্তু বা ফাইবার প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তা থেকে সুতা ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সাথে যুক্ত। বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভাঙ্গাগেট (নওয়াপাড়া) এলাকায় অবস্থিত।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৪ এপ্রিল জার্বান ফাইবার্সের পাটজাত পণ্যবাহী একটি কার্গো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কর্ণফুলী নদী ত্যাগের পরপরই রাত পৌনে ১১টার দিকে ‘অরিয়ন’ নামক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের সাথে সেটির সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনার ফলে জাহাজের তিনটি কনটেইনার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জার্বান ফাইবার্সের সম্পূর্ণ পণ্য নষ্ট বা ‘টোটাল লস’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।

পরবর্তীতে দেশি-বিদেশি সার্ভেয়ার ও জেনারেল এভারেজ (জিএ) রিপোর্টের ভিত্তিতে বীমা দাবির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৬৭ লাখ ৪১ হাজার ৮২০ টাকা এবং জেনারেল এভারেজ অ্যাডজাস্টার ফি ১ হাজার ৫৩৬.৬০ মার্কিন ডলার। এই প্রেক্ষিতে নিয়মমাফিক ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্রসহ স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের কাছে ক্ষতিপূরণের আনুষ্ঠানিক আবেদন করে জার্বান ফাইবার্স।

স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের অধীনে জার্বান ফাইবার্সের এই নৌ-বীমা পলিসি নম্বরটি হলো: এসআইএল/এইচও/পিআরবি/এমপি-০০৯৯/০৪/২০২২ (এক্সপোর্ট)। দুর্ঘটনার পর জাহাজ কর্তৃপক্ষ জেনারেল এভারেজ (জিএ) এবং ট্রান্সশিপমেন্ট পয়েন্টে মেরিন কার্গো অফিস (এমসিও) এর মাধ্যমে যৌথ পরিদর্শন সম্পন্ন করে। এই পরিদর্শনে জাহাজটির চারটি কনটেইনারের মধ্যে ৩টির পাটপণ্যই সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সত্যতা উঠে আসে।

পরবর্তীতে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের নিজস্ব সার্ভেয়ার প্রতিষ্ঠান বালটিক কন্ট্রোল (বিডি) লিমিটেড দুর্ঘটনাস্থল ও পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করে। তাদের চূড়ান্ত সার্ভে প্রতিবেদনেও ৩টি কনটেইনারের পাটজাত পণ্য সম্পূর্ণ বিনষ্ট (টোটাল লস) হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়। দেশি-বিদেশি এসব প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই সর্বমোট ৬৯ লাখ ২৪ হাজার ৬৭৫ টাকার বীমা দাবি উত্থাপন করে জার্বান ফাইবার্স।

বীমা আইন ২০১০ এর ৭২ ধারা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নন-লাইফ বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা বাধ্যতামূলক। তবে জার্বান ফাইবার্সের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স তিন বছরেরও বেশি সময়ক্ষেপণ করে শেষ মুহূর্তে মেরিন ইন্স্যুরেন্স পলিসির ‘ক্লজ ১৬(২)’-এর অজুহাতে দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে।

অথচ ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট এক চিঠিতে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স গ্রাহককে জানিয়েছিল, দাবিটি অনুমোদনের জন্য তারা পুনর্বীমাকারী প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশনকে ক্রমাগত তাগাদা দিচ্ছে এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পুনর্বীমাকারীর অনুমোদন পেলেই দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছিল স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স। কিন্তু দীর্ঘ সময় আশ্বস্ত রাখার পর হঠাৎ করে এই প্রত্যাখ্যান কোম্পানিটির বীমা দাবি পরিশোধের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দুর্ঘটনার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব নথিপত্রসহ স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সে বীমা দাবি উত্থাপন করে জার্বান ফাইবার্স। তবে প্রায় ৩৫ মাস সময়ক্ষেপণ করার পর, আগের আশ্বাসের ঠিক উল্টো পথে হেঁটে ২০ আগস্ট মেরিন ইন্স্যুরেন্স পলিসির ক্লজ ১৬(২) এর অজুহাত দেখিয়ে দাবিটি ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করে বীমা কোম্পানিটি। স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের যুক্তি ছিল, গ্রাহক মূল ক্যারিয়ারের (পরিবহনকারী জাহাজ) বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেয়ায় বীমাকারীর ‘সাব্রোগেশন’ (স্থলাভিষিক্ততা) অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

তবে আইডিআরএ’র বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি আইনি বিশ্লেষণে স্পষ্ট জানিয়েছে: মেরিন ইন্স্যুরেন্স অ্যাক্ট ১৯০৬-এর ৭৯ ধারা অনুযায়ী, বীমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণের অর্থ ‘প্রকৃতপক্ষে পরিশোধ’ করার পরই কেবল সাব্রোগেশন অধিকার লাভ করে, অর্থ পরিশোধের পূর্বে নয়। ফলে দীর্ঘ তিন বছর দাবি ঝুলিয়ে রেখে এভাবে প্রত্যাখ্যান করা বীমা আইন ২০১০-এর ৭২ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি ‘ব্যাড-ফেইথ ক্লেইমস হ্যান্ডলিং’ বা অসৎ উদ্দেশ্যে দাবি পরিচালনার শামিল।

দীর্ঘ ৩৫ মাস সময়ক্ষেপণের পরও বীমা দাবি পরিশোধ না করায় ২০২৫ সালের ২২ জুলাই বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র নিকট আবেদন করে জার্বান ফাইবার্স। এর প্রেক্ষিতে ৪ আগস্ট আইডিআরএ’র উদ্যোগে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, সাধারণ বীমা করপোরেশন ও জার্বান ফাইবার্সের মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহকের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সকে নির্দেশ দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট এক চিঠিতে জার্বান ফাইবার্সের বীমা দাবিটিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স। পরবর্তীতে একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আইডিআরএ’র পরামর্শে জার্বান ফাইবার্স ‘বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি’র চেয়ারম্যান বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ১১ জুন বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি এই মোকদ্দমা (নং- ৫৭/২০২৫)’র রায় প্রদান করে।

রায়ে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে মূল দাবির ৬৭ লাখ ৪১ হাজার ৮২০ টাকা এবং জেনারেল এভারেজ ফি বাবদ ১ হাজার ৫৩৬.৬০ মার্কিন ডলার পরিশোধের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়। একই সাথে দীর্ঘ বিলম্বের জরিমানা হিসেবে মূল দাবির ওপর প্রচলিত ব্যাংক হারের সাথে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বাণিজ্যিক প্রিমিয়াম যুক্ত করে সুদসহ সম্পূর্ণ অর্থ বুঝিয়ে দেয়ার আদেশ দেয়া হয়। তবে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির এই চূড়ান্ত রায়ের পর প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত জার্বান ফাইবার্সের বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেনি স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স।

বীমা বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক নৌ-বীমায় স্বীকৃত জেনারেল এভারেজ (জিএ) সংক্রান্ত দাবি প্রত্যাখ্যানের ঘটনা বিশ্ব বাণিজ্যে নজিরবিহীন। আইডিআরএ এবং সংস্থাটির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির স্পষ্ট নির্দেশনা ও জরিমানা আরোপের পরও গ্রাহকের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না করা মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইনি কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ বীমা গ্রাহকদের আস্থা রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বীমা আইন ২০১০ অনুযায়ী কোম্পানিটির লাইসেন্স বাতিল করার মতো চূড়ান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে পারে আইডিআরএ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের আইন লঙ্ঘনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৫ সালেও পুনর্বীমা জালিয়াতি ও একাধিক বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিটির লাইসেন্স প্রথমে স্থগিত এবং পরবর্তীতে বাতিল করেছিল আইডিআরএ। একই ধরনের আইনি অবমাননার পুনরাবৃত্তি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম বাণিজ্যে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে বীমা পেশাজীবীদের সংগঠন বিআইপিএস’র জেনারেল সেক্রেটারি এ কে এম এহসানুল হক (এফসিআইআই) বলেন, জার্বান ফাইবার্সের এই মামলাটি কেবল একটি দেশীয় কোম্পানির গাফিলতি নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের বীমা খাতের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। সারা বিশ্বের বীমা শিল্পে জেনারেল এভারেজ (জিএ) ক্লেইম নাকচ করার কোনো দৃষ্টান্ত সাধারণত দেখা যায় না।

স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের এই পদক্ষেপ একটি চরম নেতিবাচক নজির স্থাপন করেছে। হামবুর্গভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জার্বান ফাইবার্সের সাথে এমন অপেশাদার আচরণ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের বীমা খাত নিয়ে একটি ভুল ও নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে, যা সার্বিক বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন নন-লাইফ বীমা বিশেষজ্ঞ এ কে এম এহসানুল হক।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি বলেন, জার্বান ফাইবার্সের আইনসঙ্গত বীমা দাবি পরিশোধের বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সকে দেয়া কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যদি কোম্পানিটি অমান্য করে তাহলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয় স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানির সচিব মো: কাওসার মুন্সী বলেন, এ বিষয় আইডিআরএ’র সাথে কথা বলেন। আমাদের কোন বক্তব্য নেই।