পুঁজিবাজারে বস্ত্র ও বীমা খাতের শেয়ারে ভর করে সূচক কিছুটা বাড়লো
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে টালমাতাল আচরণে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে বিনিয়োগকারীদের। ফলে টানা দরপতনে চলছে বিনিয়োগকারীদের রক্তক্ষরণ। আর অস্থিরবাজারে প্রায় প্রতিদিনই কমছে মূল্যসূচক। এরচেয়েও বেশি কমছে শেয়ারের দাম। আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীদের অনেকেই যে কোনো মূল্যে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বের হয়ে যেতে মরিয়া হয়ে উঠছেন।
তবে টানা দরপতনের পর সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের উত্থান হলেও বাজার নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। তবে দিনভর সূচকের বড় পতন হলেও দিনশেষে বস্ত্র ও বীমা খাতের শেয়ারে ক্রয়ের চাপে সূচকের উত্থান হয়েছে। ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে নির্বাচনের পর নতুন সরকার ও নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এর ওপর ভর করে কিছুটা গতি ফিরেছিল দেশের পুঁজিবাজারে। তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাস্তবে না ঘটায় এখন বাজারে দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র। টানা দরপতনের পাশাপাশি গত এক মাসে ৪০৩ পয়েন্টের বেশি সূচক কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট তীব্র হচ্ছে। আবারও পুঁজি হারানোর আতঙ্ক পেয়ে বসেছে বিনিয়োগকারীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পুঁজিবাজারে দুর্বলতার পেছনে একাধিক মৌলিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি ও গ্যাস সংকট, উচ্চ সুদহার, শিল্প-কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়া, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ও লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এবং বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ঘাটতি অন্যতম।
তিনি বলছেন, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, ভালো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিল্প খাতের জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদে অর্থায়নের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় কেবল আশাবাদী বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে বাজারে টেকসই উত্থান ধরে রাখা কঠিন হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা পতনের পর মাত্র এক কার্যদিবস বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় স্বস্তির কারণ নেই। সামনের দিনগুলোতে ধারাবাহিক উত্থানের মাধ্যমে হারানো সূচক পুনরুদ্ধার করতে পারলেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজারের প্রতি আস্থা তৈরি হবে। অন্যথায়, আজকের উত্থানের পর আবারও দরপতন হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট আরও প্রকট হতে পারে।
তাদের মতে, সূচকের বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী ধারা যাতে থেমে গিয়ে আবার পতনে রূপ না নেয়, সে জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বাজারের নজরদারি বা মনিটরিং আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কেউ পরিকল্পিতভাবে বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাহলেই পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
শ্যামল ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের এমডি সাজেদুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজার ইস্যুতে কথা বলার সময় শব্দচয়নের বিষয়টা গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ পুঁজিবাজার একটি সেনসেটিভ জায়গা। এখানে যে কোন সময় যে কোন শব্দ ও বাক্য বলার ক্ষেত্রে ভেবে চিন্তে বলা উচিত। তাই সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ও নীতি নির্ধারকরা পুঁজিবাজার নিয়ে কোন নেতিবাচক কথা বললে বাজারে তার প্রভাব পড়ে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৬৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৫৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১১৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১৩ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৩ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭০ টির, দর কমেছে ১৫০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৩ টির। ডিএসইতে ৫৭১ কোটি ৩২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৬ কোটি ৫ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯১৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮৮ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১৫ টির এবং ২২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



