দেশ প্রতিক্ষণ,নারায়নগঞ্জ: দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর ফেরিঘাট এলাকায় ‘ঢাকা-ইলিশা’ ফেরি সার্ভিস চালু করেছে সরকার। ‘বেগম রোকেয়া’ ও ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ নামের দুটি ফেরি মালবাহী গাড়ি পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে এই রুটে। তবে উদ্বোধনের পর থেকে আশানুরূপ যাত্রী মিলছে না। এতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই রুটে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এরআগে ৮ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কাঁচপুর ফেরিঘাট এলাকায় ‘ঢাকা-ইলিশা ফেরি সার্ভিস’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

কাঁচপুর ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন এবং সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলাচলরত ফেরি দুটির মালবাহী ১৫টি ট্রাক বহনের ক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে প্রতিরাতে ১০-১৫টি গাড়ি নিয়ে ভোলার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে ফেরি। তবে বেশিরভাগ দিনই প্রত্যাশিত চাপ ছাড়া ফেরি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বরতরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, কাঁচপুর থেকে ইলিশার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফেরিতে ১০ চাকার গাড়িপ্রতি ২৫ হাজার, ৮-১১ টন ওজনের বড় ট্রাকপ্রতি ১৬ হাজার, ৫-৮ টনের নরমাল ট্রাকপ্রতি ১৪ হাজার ৬০০, ৩-৫ টনের ট্রাকপ্রতি ১২ হাজার, মাইক্রোবাস ৯ হাজার, এক টন ওজনের মাইক্রোবাস সাত হাজার, মোটরসাইকেল এক হাজার এবং যাত্রীপ্রতি ৩৫০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
পেশায় একজন মালবাহী ট্রাকচালক সালাহউদ্দিন।

তিনি বলেন, এখানে ফেরি চালু হওয়ায় আমাদের যথেষ্ট সুবিধা হয়েছে। তুলনামূলক ভাড়াও কম আদায় করা হচ্ছে। সাধারণত আমরা সড়কপথে যে ভাড়ায় যেতাম, বর্তমানে এই ফেরিতে চলাচল করায় তার চেয়ে কম ব্যয় হচ্ছে। ফেরি চালুর প্রথমদিক হওয়ায় চাপ কিছুটা কম থাকলেও মানুষ মালপত্র নিয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। রহমান আলী নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ফেরি চালু হওয়ায় জনগণের অনেক সুবিধা হয়েছে। কারণ গাড়িগুলো তেল খরচ ছাড়াই সরাসরি ভোলা পৌঁছাতে পারছে।

আমরা কয়েকজন গাড়িচালকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, তারা অন্য পথে যেই ভাড়ায় ভোলায় যেতেন, ফেরিতে তার চেয়ে অর্ধেক খরচে যেতে পারছেন। একই পথে ব্যক্তি মালিকানার ‘কার্নিভাল ক্রুজ’ নামের দুটি ফেরি চলাচলের কারণে বিআইডব্লিউটিসির ফেরির চাহিদা তুলনামূলক কম বলে জানান দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা।

বিআইডব্লিউটিসির সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর ফেরিঘাটের সিকিউরিটি অফিসার রিপন মিয়া বলেন, আমাদের এখানে গাড়ির চাপ কম রয়েছে। এটার অন্যতম কারণ হচ্ছে একই পথে কার্নিভাল ক্রুজের দুটি ফেরি চলাচল করে। ব্যক্তি মালিকানার ওই ফেরিগুলো কাগজে-কলমে নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের কথা বললেও গোপনে তারা চালকদের কাছে কম ভাড়া নিচ্ছেন। এতে আমরা গাড়ি কম পাচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিসি পল্টন-৭ এর সিদ্ধিরগঞ্জ জুনের ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম বলেন, উদ্বোধনের পর থেকেই ইলিশার উদ্দেশে নিয়মিত দুটি ফেরি ছাড়া হচ্ছে। সাধারণত রাত ১০টার পর ফেরি ছাড়ার কথা থাকলেও গাড়ি স্বল্পতার কারণে গভীর রাতেও ফেরি ছাড়তে হচ্ছে। গাড়ি নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ৭-৮ ঘণ্টার মতো সময় লাগছে। তবে আমাদের গাড়ি কিংবা যাত্রী কম পাওয়ার পেছনে ব্যক্তি মালিকানার কার্নিভাল ক্রুজই বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল বলেন, এই রুটে ফেরি চলাচল হচ্ছে। তবে ব্যক্তি মালিকানার ফেরির কারণে চাপ কম হচ্ছে এটা সঠিক। এ বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিসি নারায়ণগঞ্জের এজিএম আব্দুল আলীমের সঙ্গে মোবাইলেফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।