শক্তিশালী ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ: মমিনুল ইসলাম
মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে যে ইতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে, সেটি সামনের দিনে আরও জোরদার হবে। আমাদের সবার আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা এ দেশে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে, যেটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পিলার হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। সেই গন্তব্যে আমরা সবাই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবশ্যই সফল হব।
এছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে লাভ-ক্ষতি দুটোই হতে পারে। স্বাভাবিক নিয়মে শেয়ারের দাম কমা-বাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিষয়। কিন্তু বাজারের কোনো মধ্যস্থতাকারীর অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুঁজিবাজারের ওপর তাদের আস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আজ সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত ‘আইপিএফ তহবিল বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে’ তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিগত দিনে আমরা দেখেছি বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউজ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজ বিনিয়োগকারীদের অর্থ বা শেয়ার বিভিন্নভাবে নিজেদের অ্যাকাউন্টে নিয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই টাকা বা শেয়ার তাদের ফেরত দিতে পারেনি। বর্তমানে তাদের হিসাবে মোট ১৭ হাজার ৯৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী রয়েছেন। এর মধ্যে এ পর্যায়ে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীর সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে।
যাদের টাকা এ পর্যায়ে সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ হবে না, তাদের টাকাও দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার জন্য ডিএসই এবং বাজার সংশ্লিষ্ট অন্যরা তৎপর থাকবে। যত দ্রুত সম্ভব তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেন মমিনুল ইসলাম। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা জানি আপনাদের কষ্টার্জিত টাকা আপনারা অনেক আশা নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন।
আপনাদের যে ভীষণ মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি এবং যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার জন্য আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না আশা প্রকাশ করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং ব্রোকারেজ হাউজসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর তথ্য, তাদের বিনিয়োগের হিসাব এবং চূড়ান্ত ব্যালেন্স নির্ধারণ করা একটি কঠিন কাজ ছিল। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা সেই কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কাজটিও তারা সুচারুভাবে করতে পারবে বলে আশা করি।
ব্রোকারেজ কমিউনিটির অবদানের কথাও তুলে ধরেন ডিএসই চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ডের অর্থের প্রধান উৎস ব্রোকারদের ট্রেড কমিশন এবং সিসিএ (কাস্টমার কনসোলিডেটেড অ্যাকাউন্ট) হিসাবের সুদের ২৫ শতাংশ। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর এই অবদান ছাড়া ডিএসইর উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না।



