শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ফের দরপতনের বৃত্তে আটকে গেছে পুঁজিবাজার। মুলত জ্বালানির মূল্য বাড়ার পর বাড়তি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ের আশঙ্কা আর উচ্চ সুদহার কমার প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া দ্বিমুখী চাপে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের পর নতুন সরকার ও নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এর ওপর ভর করে কিছুটা গতি ফিরেছিল দেশের পুঁজিবাজারে। তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাস্তবে না ঘটায় এখন বাজারে দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র।

সম্প্রতি টানা দরপতনের পাশাপাশি একদিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ৪৫ পয়েন্টের বেশি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট তীব্র হচ্ছে। আবারও পুঁজি হারানোর আতঙ্ক পেয়ে বসেছে বিনিয়োগকারীদের। তেমনি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে কমেছে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে এর আগে গত সপ্তাহে টানা দুই কার্যদিবস দরপতনের পর গত বুধবার ঊর্ধ্বমুখী হয় পুঁজিবাজার। পাশাপাশি লেনদেন বেড়ে ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে আবার দরপতন হয়। এ পরিস্থিতিতে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এতে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকবে এমন প্রত্যাশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির কোন মিল নেই।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই বাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক কোম্পানি দাম কমার তালিকায় নাম লেখায়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত চলে এই প্রবণতা। এমনকি লেনদেনের শেষদিকে এই প্রবণতা আরও বাড়ে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই শেষ হয় দিনের লেনদেন।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান দুর্বলতার পেছনে একাধিক মৌলিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ সুদ হারের প্রভাব, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট, শিল্প-কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়া, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ও লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এবং বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ঘাটতি অন্যতম।

তারা বলছেন, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, ডিএসইর অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, ভালো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিল্প খাতের জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদে অর্থায়নের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় কেবল আশাবাদী বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে পুঁজিবাজারে টেকসই উত্থান ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হবে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৯ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৮ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৫ টির, দর কমেছে ২৭৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৬ টির। ডিএসইতে ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৮৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭৯ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯০ টির এবং ২৩ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩৯ কোটি ৫২ লাখ ২৯ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।