পুঁজিবাজারে বড় ও ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা ফেরানো জরুরি: আরিফ খান
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে বড় ও ভালো করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা ফেরানো জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান। তার ভাষ্য, সঠিক মূল্য না পাওয়া, দীর্ঘসূত্রতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে বিলিয়ন ডলারের বেশি টার্নওভার থাকা শীর্ষ ব্যবসায়িক গ্রুপ এবং অধিকাংশ বহুজাতিক কোম্পানি এখনো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না।
আজ সোমবার ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিল্ডিং ইনভেস্টর কনফিডেন্স: দ্য রোল অব প্রফেশনাল বডিস ইন অডিট রিপোর্টিং, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক যৌথ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা তুলে ধরেন তিনি। আইসিএবি, আইসিএমএবি, আইসিএসবি, আইআইএবি এবং এসিসিএ বাংলাদেশ যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।
আরিফ খান উল্লেখ করেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে মাত্র ৭৩০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত সংগ্রহ করেছে ৭৭ বিলিয়ন ডলার। শুধু গত সেপ্টেম্বরেই ভারতে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের আইপিও এসেছে। ওই এক মাসে ৩৪টি কোম্পানি বাজারে যুক্ত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর পুঁজিবাজার দ্রুত বাড়লেও বাংলাদেশের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন-টু-জিডিপি অনুপাত কমেছে। ২০১১ সালে এ অনুপাত ছিল ২০ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৬ শতাংশে।
পুঁজিবাজারের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে আরিফ খান বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব ভ্যালুয়েশন নির্ধারণ করা নয়। বরং বাজারে সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তার মতে, ভ্যালুয়েশন সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক হওয়া দরকার এবং ডাচ অকশন পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। বিুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কোটা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ খুচরা বিনিয়োগকারীদের পক্ষে একটি প্রতিষ্ঠানের সঠিক মূল্যায়ন করা কঠিন।
আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে আরিফ খান বলেন, ব্যাংকঋণ পেতে যেখানে এক মাস সময় লাগে, সেখানে আইপিও অনুমোদনে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। কাগজপত্রের জটিলতা কমিয়ে তিন থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পুঁজিবাজারে অতীতে ফ্লোর প্রাইস আরোপের সিদ্ধান্তকে দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসের অন্যতম বড় ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন আরিফ খান। তিনি জানান, গোল্ডম্যান স্যাকস বা ব্ল্যাকস্টোনের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এ সিদ্ধান্তকে ‘ঘরে ডেকে এনে দরজা বন্ধ করে দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তার ভাষ্য, ইকুইটি মার্কেটে কোনো নিশ্চিত রিটার্ন থাকতে পারে না। লোকসান হবে না, এমন নিশ্চয়তা চাওয়া হলে ভালো কোনো কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনা সম্ভব নয়।
সেমিনারে সিএফও ও অডিটরদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্টদের প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শেয়ারহোল্ডারদের পুঁজিবাজারে আসার সুফল সম্পর্কে বোঝানোর আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন নিশ্চিত করা, জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরপেক্ষ অডিটের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন করা সম্ভব।



