শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: নির্বাচনের পর নতুন সরকার ও নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এর ওপর ভর করে কিছুটা গতি ফিরেছিল দেশের পুঁজিবাজারে। তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাস্তবে না ঘটায় পুঁজিবাজারে চলছে রক্তক্ষরণ। আর অস্থিও পুঁজিবাজারে প্রায় প্রতিদিনই কমছে মূল্যসূচক। এর চেয়েও বেশি কমছে শেয়ারের দাম। মাঝে মধ্যে সূচক বাড়লেও শেয়ারের দাম বাড়ছে ১০ থেকে ২০ পয়সা। আর যে দিন সূচকের দরপতন ঘটছে সেদিন পতন হয় এক টাকা। এর ফলে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীদের অনেকেই যে কোনো মূল্যে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বের হয়ে যেতে মরিয়া হয়ে উঠছেন। তাতে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে পুঁজিবাজার যেন এক আতঙ্কের নাম।
ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে দিন যতই যাচ্ছে, বাজার নিয়ে হতাশাও তত বাড়ছে। এরপরও পতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর থেকেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা উঠে গেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। যার কারণে মাঝে মধ্যে সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও স্থিতিশীল হচ্ছে না পুঁজিবাজার।
এছাড়া গত  দুই কার্যদিবস বড় উত্থান ঘটার পর ফের দরপতন হয়েছে। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে হ্রাস পেয়েছে লেনদেনের পরিমাণ। তবে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এতে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের ঘটনা ঘটে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। তবে লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। তবে শেষদিকে এক প্রকার ঢালাও দরপতন হয়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
তবে টানা দুই কার্যদিবস সূচক বাড়ার পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে সামান্য দর সংশোধন হয়েছে। এতে উত্থানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে। আপাতত বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। বাজারের গতিপ্রকৃতি বুঝে পরবর্তী সময়ে লেনদেনে সক্রিয় হবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে যেসব বিনিয়োগকারীর হাতে পর্যাপ্ত অলস অর্থ রয়েছে, তাদের কেউ কেউ বাজারে লেনদেনে অংশ নিচ্ছেন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের তুলনায় বিনিয়োগকারীরা এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা বেশ সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কারণ মাত্র দুই কার্যদিবস সূচকের উত্থান হলেই বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে, এমনটা মনে করার সুযোগ নেই। বরং আবারও যদি ধারাবাহিক দরপতন শুরু হয়, তাহলে প্রধান সূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
তাদের মতে, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই দরপতন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বড় পুঁজির বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বাড়বে।
জানা গেছে, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪০২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৫৮ পয়েন্টে নেমে গেছে।
আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক এক পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৮৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৮টি কোম্পানির মধ্যে ৭০টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬৯টির কমেছে এবং ২৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৫ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।