দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ দ্রুত বিকাশমান একটি ওষুধ কোম্পানি। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণের গতি অনেক বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে আমাদের ব্যবসায় প্রতি বছর ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এখন দেশের শীর্ষ ৩০ ওষুধ কোম্পানির একটি। আমরা সময় উপযোগী বিজনেস পলিসি নিচ্ছি। রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। এ বিষয় আমরা বিশেষ টিম গঠন করছি। আমরা কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের প্রতি আমরা অত্যন্ত আন্তরিক।

সব মিলিয়ে বলতে পারি, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ শেয়ারে বিনিয়োগ করলে লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ থাকবে। তাই আমাদের উপর আস্থা রাখুন, আমরা আপনাদের আস্থার মর্যাদা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো বলে এমন মন্তব্য করেন কোম্পানির সচিব ইশতিয়াক আহম্মেদ।

তিনি আরো বলেন, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ অনেক বছর ধরে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে একটি সুনাম অর্জন করেছে। তাই, আমরা আমাদের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে একটি প্রিমিয়াম চাইছি। আমাদের প্রতিযোগীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পণ্য নিয়ে আসছে। তাই আমাদের অবস্থান ধরে রাখতে বাজারে নতুন ওষুধের সরবরাহ বাড়াতে হবে। কোম্পানিটি ভবিষ্যতে ভেটেরিনারি ও ইউনানি ওষুধ ব্যবসায় প্রবেশের পরিকল্পনা করছে।

কোম্পানি সচিব আরও বলেন, ১৯৮০ সালে এটি সারাদেশে একটি জনপ্রিয় ওষুধ প্রস্তুতকারক ছিল। কিন্তু আগের ম্যানেজমেন্ট তার শক্তিশালী ব্র্যান্ড ভ্যালু ধরে রাখতে পারেনি। এখন আমরা জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। IQVIA, ফার্মা শিল্পে সেবা প্রদানকারী একটি আমেরিকান বহুজাতিক কোম্পানির মতে, দেশের ওষুধের বাজার ২০২০ সালে ১০% এর বেশি বার্ষিক বৃদ্ধির সাথে ২৭০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোও বছরে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি করে। তবে দেশের শীর্ষ ১০টি কোম্পানি দেশের মোট ওষুধের ৭১ শতাংশ বিক্রি করে।

প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে লোকাল ওষুধ কোম্পানিগুলো গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে। যার ফলে বাজারের ৯০ শতাংশ ওষুধ লোকাল কোম্পানিগুলোর দখলে রয়েছে। সাম্প্রতিককালে ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটের বেশ ভালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে এটি ৬ বিলিয়ন ডলারের মার্কেটে পরিণত হবে, যা ২০১৯ থেকে ১১৪ শতাংশ গ্রোথ থাকবে। যেহেতু এশিয়াটিকের তার গুণগত মানের কারণে ডাক্তারের কাছে সুনাম রয়েছে, তাই আমাদের একটি বিশাল সুযোগ রয়েছে একটি এন্টি ক্যান্সার প্ল্যান্ট স্থাপন করার, যা শুধু দেশেই সরবরাহ নয় বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, একটি মাঝারি আকারের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণ প্রস্তাব’র (আইপিও) মাধ্যমে ৯৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি টঙ্গীতে বিদ্যমান কারখানা প্রাঙ্গণে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে আইপিও’র অর্থ ব্যয় করবে বলে জানা গেছে।

বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড তার নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক শেয়ারের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের উপর প্রিমিয়াম চায়। বাংলাদেশে, যখন একটি কোম্পানি প্রিমিয়াম চায়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারের একটি রেফারেন্স মূল্য নির্ধারণ করে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১০% ডিসকাউন্টে প্রাথমিক শেয়ার কিনতে সক্ষম হবে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর নিয়ম অনুসারে, প্রথমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রি করার লক্ষ্যে নিলামের আয়োজন করা হবে।

যে দামে এসে তাদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ারের বিক্রি শেষ হবে, সেই দামের (কাট অফ প্রাইস) চেয়ে ৩০ শতাংশ অথবা ২০ টাকা এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, সেই দামে আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হবে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর শর্ত অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে রোড শোর আয়োজন করেছিল কোম্পানিটি।

এতে যোগ্য বিনিয়োগকারী (এলিজিবল ইনভেস্টর) ও সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের সামনে কোম্পানির আর্থিক চিত্র, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির আহমেদসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। এদিকে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন সোমবার থেকে শুরু হবে।

চলবে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরই মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রান্তসীমা মূল্য (কাট অফ প্রাইস) ৫০ টাকা নির্ধারণ করেছেন যোগ্য বিনিয়োগকারীরা (ইআই)। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির শেয়ারের প্রান্তসীরা মূল্যের চেয়ে ৩০ শতাংশ ছাড় বা ২০ টাকা এ দুয়ের মধ্যে যেটি কম হবে সে মূল্যে শেয়ার বরাদ্দ পাবেন।

এ বছরের আগস্টে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৮৩৭তম সভায় বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর মাধ্যমে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজকে পুঁজিবাজার থেকে ৯৫ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হয়। উত্তোলিত অর্থে কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন ভবন নির্মাণ, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করবে।

২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী অনুসারে পুনর্মূল্যায়নসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৬ টাকা ৬১ পয়সায়। পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া যা ৩৫ টাকা ৪৮ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৬৫ পয়সা।

গত ৫ বছরের ভারিত গড় হারে কোম্পানিটির ইপিএস ৩ টাকা ২১ পয়সা। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে শাহজালাল ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোনো ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না বলে শর্তারোপ করেছে বিএসইসি।

উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ১৯৭০ সালে কোম্পানিটি শুরু করেন। কিন্তু ২৬ বছর পর তিনি মনির আহমেদ ও তাহমিনা বেগমের কাছে এটি বিক্রি করেন। বর্তমানে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাহমিনা বেগম ও মনির আহমেদ।

নতুন মালিকের অধীনে, ওষুধ প্রস্তুতকারী ২০০০ সালে তার বিপণন কার্যক্রম শুরু করে এবং এটি ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫০টির ও বেশি জেনেরিক অণু চালু করে। আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি ট্যাবলেট, সিরাপ, ইনজেকশন, ক্যাপসুলসহ ২৫৫ ধরনের ওষুধ পণ্য তৈরি করে। কোম্পানিটি ২০০৫ সালে সিঙ্গাপুর এবং ভিয়েতনামে ওষুধ রপ্তানির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যাত্রা শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ কোম্পানি আইন ১৯১৩ এর অধীনে ১৯৭০ সালের ২৫ জুলাই প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে তা ২০২০ সালের ১২ মার্চ প্রাইভেট থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। ২০২০ সালে কোভিড ১৯ এর সময় প্রতিষ্ঠানটি এন্টিসেপটিক সলিউশন বাজারজাত করে এবং জীবন রক্ষাকারী কিছু ওষুধ সরকারিভাবে সরবরাহ করে।