পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা, লেনদেন বাড়ার পূর্বাভাস
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া যে কয়টি কোম্পানি শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার প্রায় দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতন হয়েছে। তবুও বেশিরভাগ কোম্পানির দরপতনের পরও দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ। পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচকও বেড়েছে। তবে এর ফলে সপ্তাহজুড়ে উভয় পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ১৪৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহে সরকারী বন্ধ থাকায় তিন কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দুই কার্যদিবস কিছুটা সুচকের উত্থান হয়েছে। তবে এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে মূল্যসূচকের কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবনতা ছিল। ফলে বড় পতনের পর পুঁজিবাজারে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে ডিএসই ৫৪০ পয়েন্ট সূচকের কারেকশন হয়েছে। ফলে বড় কারেকশনের পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ায়। আশা করা যায় চলতি সপ্তাহ থেকে ঘুরে দাঁড়াবো দেশের পুঁজিবাজার।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের জুন-জুলাই ও আগস্টে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। তবে গত সেপ্টেম্বরে সূচকে নেতিবাচক রিটার্ন পরিলক্ষিত হয়েছে। গত আগস্টে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসই এক্স ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বাড়লেও সেপ্টেম্বর শেষে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এক মাসের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে প্রায় সাত শতাংশ।
গত মে মাস শেষে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৬৩৮ পয়েন্টে। জুনে সূচকটি ২০০ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৮৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এরপর জুলাইয়ে আরো ৬০৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৩৩ পয়েন্ট ও আগস্টে ১৫১ পয়েন্ট বেড়ে সূচকটি ৫ হাজার ৫৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর শেষে ডিএসইএক্স ১৭৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৬ পয়েন্টে নেমে আসে।
জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ১ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা বা দশমিক ২২ শতাংশ বেড়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ১ হাজার ৮৬০ কোটি ৩২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।
আগের সপ্তাহে হয়েছিল ২ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ৫৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স .৬৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪১৫ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৫১ পয়েন্ট বেড়ে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৭১ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ৮১পয়েন্টে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯৭ টি কোম্পানি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫০ টির, কমেছে ২১৫ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮.৬৬ পয়েন্ট বা ০.০৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৯ পয়েন্টে।
সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ০.৮২ শতাংশ কমে ১৩ হাজার ১০৮ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ০.১৪ শতাংশ কমে ৯ হাজার ২৬৪ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ০.৩৮ শতাংশ কমে ৯৫ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ০.৫৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার ৪২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ২১ হাজার ২০০ কোটি ৯ লাখ টাকা। টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৬৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৬৭ কোটি ৫ লাখ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ২৫ কোটি ৬ লাখ টাকা।



