শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরেই ওঠানামার মধ্য দিয়ে চলছে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বাজার সংশ্লিষ্টরা বাজারকে চাঙা করতে নানা পদক্ষেপ নিলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি আসছে না। ফলে পুঁজিবাজারে গতি এসেও আসছে না।

এছাড়া বাজার আজ ভালো তো কাল খারাপ এ অবস্থার মধ্যে দিনের পর দিন পার করছে। তবে টেকসই পুঁজিবাজার গঠনে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা উদ্যোগে মাঝে মধ্যে চাঙাভাব থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী মন্দায় কাটছে পুঁজিবাজার।

ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে আস্থা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। উল্টো অনেকে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দিয়েও বাজার ছাড়ছেন। যার ফলে বাজারে চলছে টানা দরপতন। সপ্তাহে একদিন বাড়ছে, টানা চার কার্যদিবস কমে। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই এখন বিএসইসির বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে মাসের শুরুতে নতুন করে দরপতনে হতাশ হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে পুরো অক্টোবর মাস জুড়ে মোটেও ভালো যায়নি পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য। ফলে গত দেড় মাস পতনের মধ্যে ছিল পুঁজিবাজার। ফলে বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তবে দীর্ঘ পতনের পর চলতি সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে ও লেনদেন ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশের পুঁজিবাজার মানেই দরপতনের ইতিহাস। তবে যখন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংস্কার চলছে, অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার আভাস মিলছে তখন এমন দরপতন মেনে নেওয়া যায় না। অর্থনীতির বড় সংকটের মধ্যে থেকেও সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহায়তায় শ্রীলংকার পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহামেদ বলেন, গত সপ্তাহে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফেরেনি। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কিছুটা বেড়েছে, তবে লেনদেনের পরিমাণ এখনো আশানুরূপ নয়। মূলত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যাংক খাতের তারল্যসংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ বাজারে প্রভাব ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন অপেক্ষমাণ অবস্থায় আছেন-সরকারি নীতিগত দিকনির্দেশনা ও সুদের হারের স্থিতি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চান। যদি চলতি সপ্তাহে ব্যাংক খাত ও আর্থিক খাতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়, তাহলে সূচক ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

জানা গেছে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমাণে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১১৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৮২ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৫ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৮ টির, দর কমেছে ২০৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬০ টির। ডিএসইতে ৫৪৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩১৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৯২ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬১ টির এবং ৩৩ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।