শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বড় হয়ে আমরা কেউ পুঁজিবাজারে যাব না। পুঁজিবাজারে গেলে মানুষ ফকির হয় চার সন্তানকে পড়ার টেবিলে এভাবেই প্রতিদিন শপথ করান মা আমিনা খাতুন। তাঁর স্বামী সাইফুল আলম পুঁজিবাজারে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন আগেই। ধানমণ্ডির ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের এই বিনিয়োগকারীর দিন কাটছে প্রচণ্ড গ্লানির মধ্যে। পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন, ফোর্সড সেলে সাইফুল আলমের মতো অনেক বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অন্যদিকে কারসাজি চক্রের মাস্টারমাইন্ডরা এখনো বহাল তবিয়তে কারসাজি করে যাচ্ছেন।

পুঁজিবাজারের ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ডিএসইর সূচক কমেছে ৭৯২ পয়েন্ট। ফলে টানা দরপতনের কারণে ৯০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বছর তিনেক ধরেই দেশের পুঁজিবাজারের অবস্থা হতাশাজনক। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুঁজিবাজারে কিছুটা চাঙ্গা ভাব দেখা গিয়েছিল, যদিও সেটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এরই মধ্যে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে কিছুটা সূচকের উত্থান দেখা মিললেও তা স্থায়ী হয়নি। এর মধ্যে দুই মাসের ব্যবধানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৬৪৯ পয়েন্ট হারিয়েছে।

লেনদেনের পরিমাণ নেমে এসেছে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে। সার্বিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণে যত দিন যাচ্ছে পুঁজিবাজারের দরপতন আরো তীব্র হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরব আচরনে বিনিয়োগকারীদের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মুলত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ডিএসইএক্স সূচকের অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৪২৬ পয়েন্টে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত বছরের ১১ আগস্ট সূচকটি বেড়ে ৬ হাজার ১৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। তবে এর পর থেকেই আবারো ছন্দপতন ঘটে পুঁজিবাজারে। কখনো কখনো সূচক বাড়লেও সার্বিকভাবে এ সময়ে নিম্নমুখী ছিল পুঁজিবাজার। সর্বশেষ সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে সূচক দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৮৬ পয়েন্টে। মুলত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে সূচকটি ১০৩০ পয়েন্ট হারিয়েছে।

এদিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ কমিশনের ওপর আস্থা পাচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা।

গত বছরের ১৮ আগস্ট চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক কমেছে ৭৯২ পয়েন্ট। মুলত রাশেদ মাকসুদ কমিশন যখন দায়িত্ব নেয় তখন ডিএসই সূচক ছিলো ৫৭৭৮.৬৩ পয়েন্ট। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর সূচক এসে দাঁড়িয়েছে ৪৯৮৬.৮৯ পয়েন্ট।