দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ কমিশনের অপসারনে গুঞ্জনে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত বিএসইসি চেয়ারম্যানের ওপর আস্থা পাচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ১৫ মাস অতিবাহিত হলেও এখন আস্থা ফেরাতে পারেনি পুঁজিবাজার। ফলে রাশেদ মাকসুদকে অপসারনের দাবী জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এমনকি সরকারের নীতি নির্ধারকরা বিএসইসি নতুন চেয়ারম্যানের ব্যাপারে দক্ষ লোক খুঁজছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

রাশেদ মাকসুদ কমিশনের ওপর আস্থা সংকট থাকায় দিন যতই যাচ্ছে ততই বিনিয়োগকারী কমেছে পুঁজিবাজারে। ফলে পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনকে ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টসহ বিনিয়োগকারীরা।

এছাড়া গত বছরের ১৮ আগস্ট চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক কমেছে ১০৭৬ পয়েন্ট। মুলত রাশেদ মাকসুদ কমিশন যখন দায়িত্ব নেয় তখন ডিএসই সূচক ছিলো ৫৭৭৮.৬৩ পয়েন্ট। গত সপ্তাহে সর্বশেষ দরপতনে ডিএসইর সূচক এসে দাঁড়িয়েছিল ৪৭০২.৬৮ পয়েন্ট। আর দৈনিক লেনদেনের ধীর গতিতে সন্তুষ্ট হতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা। ফলে ক্ষোভ আর হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে বিনিয়োগকারীদের।

কারণ পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে নাভিশ্বাস উঠে যায় বিনিয়োগকারীদের। তবে শেষ কয়েকদিন অযৌক্তিক মার্জিন রুলস আদালতে স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে অপসারণ করা হবে,

এমন গুঞ্জনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ে আশার সঞ্চার তৈরী হয়েছে। এরমধ্যে সর্বশেষ গত শনিবার দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণসহ একটি অনলাইন পোর্টালে অপসারণের খবরটি জোড়ালোভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে এদিন পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান হয়েছে।

মুলত গত ১৫ মাস ধরে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সংস্কার করছে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে তারা যতই সংস্কার করছে, ততই পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে করে বর্তমান কমিশনের সংস্কার এর ইমধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপসংস্কার হিসেবে ধরা দিয়েছে। যে কমিশন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কিছু করতে না পারলেও শুরু থেকে বিভিন্ন জনকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে বিএসইসিকে ‘শাস্তি কমিশন’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে।

যার ফলে পুঁজিবাজারের স্বার্থে বিনিয়োগকারীরা মাকসুদের অপসারণ চান। যার অপসারণেই পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্বাস বিনিয়োগকারীদের। কারন রাশেদ মাকসুদ পুঁজিবাজার বুঝেন না। এটা শুধু সাধারন বিনিয়োগকারীদের কথা না। এই কথা এখন বিএসইসির সাবেক স্বনামধন্য চেয়ারম্যানসহ স্টেকহোল্ডারদের। তাই রাশেদ মাকসুদের অপসারন করা এখন সময়ের ব্যাপার।