মোবারক হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির পুরোটা এসেছে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা ধারাবাহিকভাবে বাজার ছাড়ছেন, সেই প্রবণতা চলতি ডিসেম্বরেও থামেনি। ফলে চলতি ডিসেম্বর মাসে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ১৫৯টি করে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বেড়েছে।

সার্বিকভাবে পুঁজিবাজারে বিও হিসাব বাড়লেও বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব কমেছে। মুলত ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা ধারাবাহিকভাবে শেয়ারবাজার ছাড়তে থাকেন। যা অব্যাহত থাকতে দেখা যাচ্ছে চলতি মাসেও।

চলতি ডিসেম্বর মাসের ১১ কার্যদিবসে বিদেশি ও প্রবাসীদের বিও হিসাবে কমেছে ১৪টি। বিপরীতে সার্বিক বিও হিসাব বেড়েছে এক হাজার ৭৫২টি। বিও হল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্রোকারেজ হাউস অথবা মার্চেন্ট ব্যাংকে একজন বিনিয়োগকারীর খোলা হিসাব। এ বিও হিসাবের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে লেনদেন করেন। বিও হিসাব ছাড়া শেয়ারবাজারে লেনদেন করা সম্ভব না। বিও হিসাবের তথ্য রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)।

এ সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭২১টি। যা গত ১ ডিসেম্বর ছিল ১৬ লাখ ৩৬ হাজার ৯৬৯টি। এ হিসাবে চলতি মাসে পুঁজিবাজারে বিও হিসাব বেড়েছে ১ হাজার ৭৫২টি। এখনো পর্যন্ত চলতি মাসে ১১টি কার্যদিবস পার হয়েছে। এ হিসাবে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে বিও হিসাব বেড়েছে ১৫৯টি। এদিকে, বর্তমানে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ৪৩ হাজার ৫৪৫টি। গত ১ ডিসেম্বর বিদেশি ও প্রবাসীদের নামে বিও হিসাব ছিলো ৪৩ হাজার ৫৫৯টি। অর্থাৎ চলতি মাসে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব কমেছে ১৪টি।

বিদেশিদের বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ছাড়ার প্রবণতা শুরু হয় ২০২৩ নভেম্বর থেকে। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব ছিল ৫৫ হাজার ৫১২টি। এ হিসাবে ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবরের পর দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি ও প্রবাসীদের নামে বিও হিসাব কমেছে ১১ হাজার ৯৬৭টি।
বিদেশি ও প্রবাসীরা দেশের পুঁজিবাজার ছাড়লেও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশি বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪০৪টি, যা গত ১ ডিসেম্বর ছিল ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬২টি। অর্থাৎ চলতি মাসে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ১ হাজার ৭৪২টি।

এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও এর আগে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার ছেড়েছেন। ২০২৪ সালের শুরুতে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫১টি। আর বর্তমানে বিও হিসাব আছে ১৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭২১টি। অর্থাৎ ২০২৪ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিও হিসাব কমেছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০টি।

এদিকে বর্তমানে পুঁজিবাজারে যে বিনিয়োগকারীরা আছেন, তার মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ১২ লাখ ৩২ হাজার ৪০৪টি। গত ১ ডিসেম্বর এ সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৩০ হাজার ৯৫৫টি। অর্থাৎ চলতি মাসে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের হিসাব বেড়েছে এক হাজার ৪৪৯টি।

অপরদিকে, বর্তমানে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৫টি। গত ১ ডিসেম্বর এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ২৬৬টি। এ হিসাবে গত এক মাসে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ২৭৯টি। নারী-পুরুষ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি চলতি মাসে কোম্পানির বিও হিসাবও বেড়েছে। বর্তমানে কোম্পানি বিও হিসাব রয়েছে ১৭ হাজার ৭৭২টি। গত ১ ডিসেম্বর এ সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৭৪৮টি। এ হিসাবে এক মাসে কোম্পানি বিও হিসাব বেড়েছে ২৪টি।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের যে বিও হিসাব আছে তার মধ্যে একক নামে আছে ১১ লাখ ৮১ হাজার ২৭৮টি, যা গত ১ ডিসেম্বর ছিল ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৭১৫টি। অর্থাৎ চলতি মাসে একক নামে বিও হিসাবে বেড়েছে ১ হাজার ৫৬৩টি। অপরদিকে, বিনিয়োগকারীদের যৌথ নামে বিও হিসাব আছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭১টি। গত ১ ডিসেম্বর যৌথ বিও হিসাব ছিল ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৬টি। অর্থাৎ চলতি মাসে যৌথ বিও হিসাব বেড়েছে ১৬৫টি।