শহীদুল হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতনের বৃত্তে আটকে গেছে দেশের পুঁজিবাজার। দিন যতই যাচ্ছে লোকসানের পাল্লা ততই ভারী হচ্ছে। ক্রেতাশূন্য বাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দাম হু-হু করে কমছে, আর প্রতিদিনের পতনে বিনিয়োগকারীর ক্ষতির বোঝা ক্রমেই ভারী হচ্ছে। ফলে টানা পতনের ধাক্কায় সিংহভাগ পুঁজি হারিয়ে বিনিয়োগকারীদের নাভিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে তিন কার্যদিবসেই সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের টানা দরপতন হলেও বাজার ইস্যুতে বিএসইসি ও ডিএসইর নিরব ভুমিকা পালন করছেন। ফলে আস্থা ও তারল্য সংকটে হাহাকার হয়ে পড়ছে পুঁজিবাজার। এ অবস্থায় বাড়ছে ক্রেতা সংকটের হিড়িক। বাজার সংশ্লিষ্টরা হঠাৎ করে পুঁজিবাজারের এহেন আচরণের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।

তাদের মতে, অর্থনীতির সব সূচক এ মুহূর্তে ভালোর দিকে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ক্রমেই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের কারণ কী এ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত। তাছাড়া ২০১০ সালের ক্ষত গত ১৫ বছরে শুকাতে না পারলেও ২০২৫ ধসে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

ফলে ২০১০ সালের বড় ধসের পর পুঁজিবাজার আর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল বাজার এক সময় ঘুরে দাঁড়াবে, হারানো মূলধন মুনাফাসহ ফেরত আসবে। কিন্তু বাস্তবে লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। এ অবস্থায় সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থনীতিবিদরাও বরাবরই বলে আসছেন, পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী দরপতনের পর দাম সংশোধন হয়ে আবার বাড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিনিয়োগকারীরা যত বারই নতুন করে বিনিয়োগ করছেন তত বারই নতুন করে লোকসানের শিকার হয়েছেন। সেই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন কমে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেন শেষে তা পতনে রূপ নেয়। ফলে পুঁজিবাজার আচরণের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে সূচকের বড় উত্থান হলেও শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকের বড় দরপতন হয়েছে। তবে লেনদেন শুরুর পৌনে ৩ ঘণ্টা পর থেকে সূচক পতনমুখী হতে শুরু করে। লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তা পতনমুখী অবস্থায় ছিল।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮৫৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৮ টির, দর কমেছে ২৯৯ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩ টির।

ডিএসইতে ৩৭৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪১৩ কোটি ১১ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৯৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৪১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১০৩ টির এবং ১৬ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৫ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।