পুঁজিবাজারে সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও আস্থা সংকট কাটছে না
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও আস্থা সংকট কাটছে না। কারণ এর আগে একদিন সূচক বাড়লেও তিন কার্যদিবস দরপতন হয়েছে। এ ভাবে বছরের পর বছর পার করছে পুঁজিবাজার। তবে বিনিয়োগকারীরা লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না। যার কারণে আস্থা সংকটের কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার।
তবে আস্থা সংকট কাটলে হু হু করে বাড়বে পুঁজিবাজার বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা। এদিকে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে সূচক বাড়লেও কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন। তবে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলী মতে, ২০১০ সালের বড় ধসের পর আজ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার ফিরে পায়নি। সম্প্রতি পুঁজিবাজার যে ভাবে টানা দরপতন হয়েছে। এটা কোন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ নয়। এছাড়া টানা দরপতনে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম ৮০ শতাংশের বেশি উধাও হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফেরাতে সূচকের টানা উত্থানের বিকল্প নেই। তবে ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন। নির্বাচনের জটলা কেটে গেলেও হু হু করে বাড়বে পুঁজিবাজার বলে তিনি মনে করেন। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত ধৈর্য ধরে শেয়ার বিক্রি থেকে বিরত থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮৮৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৮২ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৮ টির, দর কমেছে ১২৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৩ টির। ডিএসইতে ৩৩৮ কোটি ১০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৪২ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬৭ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬৯ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৩ টির এবং ২৫ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৫ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



