শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বিদায়ী ২০২৫ সালের পুরো সময়ে দেশ পরিচালনায় আছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান শেষে গঠিত ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমান সরকারের কাছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিলো অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান হবে, ঘুরে দাঁড়াবে দেশের পুঁজিবাজার। তবে বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। এমনকি বছরের শেষের দিকে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে।

ফলে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট কোনোভাবেই কাটছে না। আওয়ামী সরকারের পতনের পর সংশ্লিষ্টরা ভেবেছিলেন এবার ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার। কিন্তু বাস্তবে গত ১৭ মাসে বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুলত তারল্য নয় আস্থার সংকটে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার।

ফলে একদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা, অন্যদিকে নীতিনির্ধারকদের অনাগ্রহ সব মিলিয়ে বাজার যেন পতনের এক গভীর গহ্বরে নিমজ্জিত। ফলে টানা দরপতনে পুঁজিবাজার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বিনিয়োগকারীরা। ফলে দিন যতই যাচ্ছে পুঁজিবাজারের হাহাকার ততই বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ মানেই লোকসান। যার ফলে পুঁজিবাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা বিরাজ করছে।

এমনকি পুঁজিবাজার থেকে নীরবে প্রস্থান করছেন হাজারো বিনিয়োগকারী। দীর্ঘমেয়াদি মন্দা, আস্থার সংকট এবং ভালো শেয়ারের অভাবে গত ১৫ মাসেই পুঁজিবাজার ছেড়েছেন বা নিস্কিয় হয়ে পড়েছেন ৬২ হাজারের বেশি বিনিয়োগকারী।

ফলে পুঁজিবাজারে গত ১৬ মাসেও আস্থা ফেরাতে পারেনি রাশেদ মাকসুদ কমিশন। গত বছরের ১৮ আগস্ট পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক কমেছে ১০৭৮ পয়েন্ট।

মুলত রাশেদ মাকসুদ কমিশন যখন দায়িত্ব নেয় তখন ডিএসই সূচক ছিলো ৫৭৭৮.৬৩ পয়েন্ট। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর সূচক এসে দাঁড়িয়েছে ৪৮৬৯ পয়েন্ট। তবে নভেম্বর মাসের ১৩ তারিখ ১২২ পয়েন্ট সূচকের বড় দরপতনে ডিএসইর সূচক এসে দাঁড়িয়েছে ৪৭০২ পয়েন্ট।

বাজার বিশ্লেষণ জানা যায়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ১৬ মাস ধরে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সংস্কার করছে। তবে যতই সংস্কার করছে, ততই পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মুলত বাজার স্থিতিশীল না করে সংস্কারের ফলে বাজার আরো অস্থিতিশীল হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা দিনের পর দিন নি:স্ব হচ্ছে।

ফলে বাজারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে বিনিয়োগকারীরা। এতে করে বর্তমান কমিশনের সংস্কার এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপসংস্কার হিসেবে ধরা দিয়েছে। যে কমিশন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কিছু করতে না পারলেও শুরু থেকে বিভিন্ন জনকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে বিএসইসিকে ‘শাস্তি কমিশন’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৬৭ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৩ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩১ টির, দর কমেছে ১৯৯ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৩ টির। ডিএসইতে ৩৮৫ কোটি ৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৩৮ কোটি ১০ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৫২ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৫২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৭৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫৯ টির এবং ১৬ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।