শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা অস্থিরতায় মধ্যে দিয়ে বছর পার করছে দেশের পুঁজিবাজার। বিরাজ করছে নানান জটিলতা ও শঙ্কা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে। এ অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা ছিল পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন মেলেনি। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপেও গতি ফিরে পায়নি পুঁজিবাজার। ফলে বছরজুড়ে পুঁজিবাজারে ধরাবাহিকভাবে সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধন কমেছে। পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী।

পূঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে দেখা গেছে অনেক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। তবে বছরজুড়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন, শৃঙ্খলা ফেরানো, অসদাচরণ রোধ, নজরদারির আধুনিকায়ন, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের চেষ্টা করাসহ আইনকানুন সংশোধন এবং আধুনিকায়নের কাজ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (বিএসইসি)।

তবে কোন কাজই পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারেনি। ফলে বছরের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের মিশ্রাবস্থায় লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেনের শেষদিকে তা পতনে রূপ নেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে ডিএসইএক্স সূচকের উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। তবে লেনদেন শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট পর তা পতনমুখী হয়ে যায়। এরপর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলেও লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তা পতনমুখী অবস্থায় ছিল।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৭৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৫৩ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯২ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮০ টির, দর কমেছে ১২২টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৯০ টির। ডিএসইতে ৩৫৪ কোটি ৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৪৪ কোটি ৮ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩০৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬১০ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৪৫ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে।

এসব কোম্পানির মধ্যে ৫৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭১ টির এবং ১৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।