আস্থার সংকটে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার, লেনদেনে ভাটা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে কোনোভাবেই আস্থা ফিরছে না। মুলত চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কারণে স্বাভাবিক হতে পারছে না পুঁজিবাজার। তৈরি হয়েছে আস্থার সঙ্কট। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে পার করছে। মাঝে মধ্যে সূচকের কিছুটা উত্থান দেখা মিললেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দরপতনের কবলে পড়ছে পুঁজিবাজার। এছাড়া পুঁজিবাজারে আবারও লেনদেনে খরা দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও তা স্থায়ী হয়নি। ফলে ডিএসইতে দীর্ঘ এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। ফলে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মুলত আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করা বিএসইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা।
কারণ বর্তমান কমিশনের উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই বলেই চলে। এ অবস্থায় যে কোন মূল্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আস্থা ফিরলে দ্রুত বাজার ঘুরে দাঁড়াবো বলে তারা মনে করেন।কারণ বাজারে অর্থের সমস্যা নয় আস্থা সংকটের কারনে কেউ বাজারমুখী হচ্ছেন না।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশ কিছু কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা সামনে থাকায় বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ফলে পুঁজিবাজারে লেনদেনের গতি কমেছে এবং এক ধরনের ‘ধীরে চলা’ প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, যেখানে আগে দৈনিক লেনদেন ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে তা ৮০০ কোটির নিচে নেমে এসেছে। গত ৫ মে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৮৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল প্রায় ৮৭৬ কোটি টাকার মতো। তবে ধারাবাহিক পতনের ধারায় আজ লেনদেন নেমে এসেছে ৭৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় ৬৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা কম।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেন কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বড় বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। তারল্য সংকটের কারণে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ কমে গেছে। এছাড়া দ্রুত লাভের সুযোগ কম থাকায় ডে-ট্রেডারদের অংশগ্রহণও কমেছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৪৮পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৮ টির, দর কমেছে ২১৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৭ টির। ডিএসইতে ৭৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮০১ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ৬৯ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১০৪ টির এবং ২৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২০ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



