শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: কোরবানী ঈদের আগে পুঁজিবাজারে লেনদেন হবে আর মাত্র পাঁচ কার্যদিবস। তাই ঈদ আনন্দের অর্থ উত্তোলনের জন্য শেয়ার বিক্রি হিড়িক পড়েছে পুঁজিবাজারে। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে ডিএসইতে সূচকের দিনভর উঠানামার মধ্যে লেনদেন হলেও দিনশেষে ১৯ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে। ফলে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বিমাসহ বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মেলে। তবে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই একের পর এক বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম কমতে থাকে। সেই সঙ্গে বস্ত্রখাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম কমে যায়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক পুঁজিবাজারে।

ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। যার ফলে ১১টি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ৪২টির দাম এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর বস্ত্রখাতের ১৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়লেও কমেছে ৩৩টির দাম এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ঈদের খরচ মেটাতেই অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে নগদ টাকা তুলে নিচ্ছেন। এ কারণে বাজারে বিক্রির চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে যারা এখন ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার কিনে ধরে রাখতে পারবেন, ঈদের পর তাদের জন্য মুনাফার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে টাকার পরিমাণে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২২৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৭০ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯২ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৯ টির, দর কমেছে ২২৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫ টির। ডিএসইতে ৮৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯৯৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৭৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ২১৪ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১১ টির এবং ২৩ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩২ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।