পুঁজিবাজারে সুবাতাস বইছে, সপ্তাহজুড়ে মূলধন বেড়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দীর্ঘদিন আস্থাহীন ও অনিশ্চয়তার কারণে গতিহীন হয়ে পড়া পুঁজিবাজারে ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে ভর করে গতি ফেরার আভাস মিলছে। ফলে সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে ৩ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার বাজার মূলধন বেড়েছে।
গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। বিশেষ করে ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে আস্থা বাড়ায় সূচকের উত্থানের সাথে বাজার মূলধন বেড়েছে। তেমনি সপ্তাহটিতে অধিকাংশ কোম্পানি শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ফলে পুঁজিবাজারে এখন রীতিমতো সুবাতাস বইছে। টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে বাজারে যে পুনরুদ্ধারের ধারা শুরু হয়েছিল, তা গত সপ্তাহেও অব্যাহত ছিল। বাজেট-পরবর্তী ইতিবাচক মনোভাব এবং বাজার-বান্ধব নীতিমালার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা ফিরে এসেছে। এর ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় সাড়ে নয় মাস পর আবার ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করেছে। ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত সপ্তাহে সূচকটি ১৪১ পয়েন্ট বা আড়াই শতাংশের বেশি বেড়ে ৫ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে টানা দরপতনের সময় বাজারের প্রধান তিনটি খাত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি দরপতনের শিকার ছিল। তা ছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনার চিত্র প্রকাশিত হলে আরো বেশি প্রভাব পড়ে এ খাতগুলোতে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মন্দা কাটিয়ে পুঁজিবাজার ভালো অবস্থায় ফিরতে শুরু করলে এ তিনটি খাতের মূল্যস্তর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। ফলে নতুন করে এসব খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে আস্থা বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের। এখন আস্থা ধরে রাখাই নতুন চেয়ারম্যানের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। তবে রাতারাতি পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরবে না বিনিয়োগকারীদের। বাজেটে পদক্ষেপ নিলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। পুঁজিবাজারে কারসাজিতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে এআই প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ১০ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৩ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা বা দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ৬ হাজার ৪১৯ কোটি ২১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ৬ হাজার ৪৩৮ কোটি ৮ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ১৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা কমেছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে।
অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ১৪৩ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯০ টি কোম্পানি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুরোর মধ্যে দর বেড়েছে ২২২ টির, কমেছে ১৪৬ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।



