এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের তদন্তের নির্দেশ বিএসইসির
বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ড খাতের কোম্পানি এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের সন্দেহজনক লেনদেনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কঠোর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মুলত পুঁজিবাজারের সার্বিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কে বিস্তারিত তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন। গত সোমবার বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে জারি করা হয়েছে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ।
সম্প্রতি কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। এক মাসে ফান্ডটির ইউনিটের দাম বেড়েছে প্রায় ১০৩ শতাংশ।
তথ্যমতে, গত ৫ জুলাই ফান্ডটির ইউনিটের দাম ছিল ৩ দশমিক ৪০ টাকা, যা ২ আগস্ট বেড়ে ৬ দশমিক ৯০ টাকায় দাঁড়ায়। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ইউনিটপ্রতি দর ৩ দশমিক ৫০ টাকা বাড়ার পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না— তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এর আগে মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে চাওয়া হয়নি কোনো ব্যাখ্যা।
বিএসইসির নির্দেশনায় তদন্তের বেশ কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বিত কারসাজিমূলক লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না এবং স্টকব্রোকার, ডিলার ও প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস যথাযথভাবে মেনেছেন কি না। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে তারা কমিশনের মার্জিন-সংক্রান্ত বিধি ও প্রজ্ঞাপন যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় থাকবে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘন।
এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই ফান্ডটির পরিশোধিত মূলধন ১৪৩ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট ইউনিট সংখ্যা ১৪ কোটি ৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৪৩টি।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম বাড়া এবং লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেছে কমিশন। বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মনে হয়নি। তাই এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ডিএসইকে ফান্ডটির ইউনিটের দাম ও লেনদেন বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে নেওয়া হবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।



