দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেয়া দশ মেগা প্রকল্পের অন্যতম অহঙ্কারের প্রতীক স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সফল বাস্তবায়ন হয়েছে। আট বছরের কম সময়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এবার বাকি ৯ প্রকল্প দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুলত আগামী দুই মাসেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে অন্তত ৯টি মেগাপ্রকল্প। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হয়েছে আমাদের প্রতিনিধি। যদিও একটি পক্ষ এসব প্রকল্পকে ‘নির্বাচনি উদ্বোধনী’ বলছেন।

তারা অভিযোগ করে বলছেন, ‘নির্বাচনে ভোট টানতে সরকার তড়িঘড়ি করে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করছেন। তবে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ যেহেতু উন্নয়ন করেছে তাই আওয়ামী লীগ অবশ্যই এসব প্রকল্পের কথা জনগণের কাছে বলবে। এসব প্রকল্প দেখিয়ে পুনরায় নৌকায় ভোট দেয়ার আবেদন জানাবে জনগণকে। এটা আওয়ামী লীগের অধিকার। বিশেষজ্ঞরা এসব প্রকল্পকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ট্রামকার্ড হিসেবেই দেখছেন।

আগামী অক্টোবরের মধ্যে চালু হচ্ছে মেট্রোরেল প্রকল্প। এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর ঢাকার যানজট কমে আসবে। এতে করে বাঁচবে সময় ও কর্মঘণ্টা।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর দশ মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হিসেবে এগুলো বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়।

পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। এই সেতু চালু হওয়ায় এবার পুরো দেশের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমূহের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্পসমূহের মধ্যে একটি পদ্মা সেতু। বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা পদ্মা সেতু নির্মাণে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি করলেও ষড়যন্ত্রের মুখে ঘুষ ও দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রত্যাহার করে নেয়।

তবে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর সফল বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীরাও এবার বাংলাদেশকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে। সরকারের নেয়া বাকি ৯ মেগা প্রকল্পে সরকারের পাশাপাশি বিদেশী সহযোগীরা অর্থায়ন করছে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে বাকি প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২ মাসের মধ্যে দেশের মানুষ এসব প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবেন। ভবিষ্যতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার ভিত্তি রচনার ক্ষেত্রে এই দশ মেগা প্রকল্প নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কারণ স্বাধীনতার পর যে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে উপহাস ও ঠাট্টা বিদ্রুপ করা হতো সেই বাংলাদেশ আজ বিলিয়ন ডলারের মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে নিজেদের অর্থায়নে। তলাবিহাীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। পদ্মা সেতুর মতো হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন যেন বাংলাদেশ সক্ষমতার প্রতিচ্ছবি।

আজকে বাংলাদেশকে বলা হয় দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ কিংবা এশিয়ার টাইগার। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উন্নয়নে বাংলাদেশকে ‘রোল মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করে অন্যান্য দেশেকে বাংলাদেশকে ফলো করার পরামর্শ দিয়েছেন। এবার উন্নয়নের আর এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই মাসেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে অন্তত ৯টি মেগাপ্রকল্প।

উদ্বোধনের অপেক্ষায় যেসব প্রকল্প: ১. খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্প, ২. পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প, ৩. কক্সবাজার রেল সংযোগ প্রকল্প, ৪. আখাউড়া-আগরতলা আন্তঃদেশীয় রেল সংযোগ প্রকল্প ৫. মেট্রোরেল প্রকল্প, ৬. ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ৭. পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে ৮. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ট্যানেল ৯. শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প: ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন বসানোর পাশাপাশি স্টেশন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে আলাদা প্রকল্প নেয় রেলওয়ে। জিটুজি (সরকারি পর্যায়ে) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীন। এ প্রকল্পে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রকল্প সূত্রমমে, মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৯৬ শতাংশ। আগামী সেপ্টেম্বরেই প্রকল্পের এই অংশের উদ্বোধনের জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আর ঢাকা-মাওয়া অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৯৬ ভাগ। তবে ভাঙ্গা যশোর পর্যন্ত অংশের অগ্রগতি ৭৯ শতাংশ, এ অংশের উদ্বোধন হবে ২০২৪ সালের জুনে। সূত্রমতে, সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন চলবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চাওয়া হবে। তিনি ২০ সেপ্টেম্বরের পরে যেদিন সময় দেবেন সেদিন উদ্বোধন হবে।

কক্সবাজার রেল সংযোগ প্রকল্প: চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন রেললাইনের দৈর্ঘ্য ১০২ কিলোমিটার। এ প্রকল্পের ফলে ঢাকা থেকে পর্যটননগরী কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন হবে। এ প্রকল্পটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে আঠারো হাজার কোটি টাকারও বেশি। আগামী অক্টোবর মাসে উদ্বোধনের পর রেল চলাচল শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার রেললাইন বসানো হয়ে গেছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৮৮ শতাংশ।

রেলওয়ে মন্ত্রণালয় আগে সেপ্টেম্বরের কথা বললেও কালুরঘাট সেতু সংস্কার ও বান্দরবানের পাহাড়ি ঢলে রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পিছিয়ে যাচ্ছে। সূত্রমতে জানা গেছে, উদ্বোধনের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিক করা হবে। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করার চিন্তায় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ছবিতে আসলে যতটা ক্ষতি হয়েছে দেখা যাচ্ছে তেমন কিছুই হয় নাই। বৃষ্টির কারণে সামান্য পাথর সরে গেছে। তাছাড়া ওই জায়গাটাই কার্ভ।

আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ প্রকল্প: অবশেষে আলোর মুখ দেখছে আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন। ইতোমধ্যেই প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে আখাউড়া-আগরতলা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। দুই দেশের মধ্যে এ রেলপথ চালু হলে আগরতলা থেকে কলকাতার দূরত্ব ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার কমে হবে মাত্র ৩৫০ কিলোমিটার। ৪৭৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ভারত অনুদান দিচ্ছে ৪২০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্প সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথভাবে উদ্বোধন করতে পারেন। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আখাউড়া-আগরতলা প্রকল্পের কাজ ৯০ ভাগের বেশি হয়েছে। রেললাইন বসানোর কাজ পুরো শেষ।

খুলনা-মোংলা রেললাইন: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর হলেও মোংলা বন্দর এতদিন ছিল রেল সংযোগের বাইরে। এজন্য খুলনা থেকে মংলায় নেওয়া রেলপথ সম্প্রসারণের উদ্যোগ। নানা জটিলতায় পাঁচবার সময় বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পটির। এবার নির্মাণকাজ শেষের পথে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৯৭% কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, আগস্ট মাসে এ প্রকল্পের ৯৯ ভাগ কাজ শেষ হয়ে যাবে। শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং কিছু কাজ বাকি আছে স্টেশনগুলোর। এ প্রকল্পটি ২০১০ সালে একনেক সভায় অনুমোদন হওয়ার ১৩ বছর পরে এসে আলোর মুখ দেখছে। এই প্রকল্পটিও সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে ভারত সফরের সময় আলাদা সময় বের করে উদ্বোধন করা হতে পারে বলে সূত্রে জানা গেছে।

রেলের চার প্রকল্পের উদ্বোধনের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন হচ্ছে। ঢাকা থেকে মানুষ সরাসরি কক্সবাজার যাবে—এটা একটা বিরাট অর্জন। মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। পদ্মা রেল সংযোগের ফলে যশোর পর্যন্ত সংযোগ হয়ে যাচ্ছে। এ প্রকল্পের ফলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব কমে আসছে। এরপর মোংলা পোর্ট যুক্ত হচ্ছে রেলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে। এরপর আন্তঃদেশীয় একটা রুট হচ্ছে আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ প্রকল্প।

রেলের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অর্জন। রেলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে। আর এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটের সময় আমরা মানুষের কাছে কী বলি। মানুষের বিভিন্ন দাবিদাওয়া থাকে, আমাদের বিভিন্ন নির্বাচনি ইশতেহার থাকে। এখন এ উন্নয়ন তো আমাদের অর্জন। আমরা এগুলা যদি মানুষের কাছে বলতে না পারি তাহলে মানুষকে কী বলব? আমাদের অর্জন আমরা বলতে পারব না। মানুষ আমাদের কেন ভোট দেবে? উন্নয়ন করার জন্যই তো ভোট দেবে। আমার নির্বাচনি এলাকার মানুষের কাছে আমার কমিটমেন্ট আছে না—সেগুলো পূরণ হলে তো আমরা মানুষের কাছে বলতে পারব। পুনরায় ভোট চাইতে পারব।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও হয়ে ফার্মগেট— কোথাও নেই সিগন্যাল, নেই যানজট। যানজটের নগরী ঢাকায় এটা এক কষ্টকল্পনা কিন্তু মাত্র ১২ মিনিটে ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন সফল বাস্তব রূপ নিচ্ছে এবার। সেপ্টেম্বরেই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে এ সুবিধা পাবে নগরবাসী। যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ। আজ বিমানবন্দরের কাছের কাওলা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক এএইচএমএস আকতার বলেন, এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রথম অংশের বনানী পর্যন্ত ৯৮ শতাংশ ও বনানী থেকে মগবাজার অংশে ৫৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশ উদ্বোধনে প্রস্তুত।

মেট্রোরেল লাইন-৬: দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এরই মধ্যে মেট্রোরেল নিয়মিত চলাচল করছে। আর অক্টোবরেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশটিও। এরই মধ্যে এ অংশে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক চলাচল। উত্তরা থেকে মতিঝিল যেতে আর অপেক্ষা করতে হবে না দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। দুর্ভোগ পোহাতে হবে না অসনীয় যানজটের। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে ঢাকাবাসী এ পথ মেট্রোরেলে পাড়ি দিবে মাত্র ৩৮ মিনিট।

কর্ণফুলী টানেল: কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নির্মাণকাজ শেষ। এ প্রকল্পের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে অক্টোবরে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে টানেলের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। এ প্রকল্প সমাপ্ত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের বিবরণ অনুসারে, নির্মাণাধীন টানেলের দৈর্ঘ্য হবে ৩ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। এ ছাড়া ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটারের একটি অ্যাপ্রোচ সড়কের পাশাপাশি একটি ৭২৭ মিটার ওভারব্রিজ রয়েছে, যা মূল শহর, বন্দর ও নদীর পশ্চিম দিককে এর পূর্ব দিকের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে: বাংলাদেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে যাচ্ছে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে। এ এক্সপ্রেসওয়ে হতে যাচ্ছে আধুনিক ঢাকার নতুন গেইটওয়ে। দেশের প্রথম ১৪ লেনের মহাসড়ক, যার ৮টি এক্সপ্রেসওয়ে। নান্দনিক এ সড়ক ধরেই তৈরি হচ্ছে পূর্বাচল স্যাটেলাইট সিটির নকশা। মহাসড়কের দুপাশে রয়েছে ১০০ ফিট খাল। সাড়ে ১২ কিলোমিটার এ সড়কে থাকবে পাঁচটি অ্যাডগ্রেড ইন্টারসেকশন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনে নির্মিত এ সড়কপথে শেষ সময়ে চলছে লাইটপোস্ট আর রোড মার্কিংয়ের কাজ। রাজধানীর বুকে এ ১২ দশমিক ৩ শূন্য কিলোমিটার দীর্ঘ ১২ লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে নতুন শহর পূর্বাচলের সঙ্গে যুক্ত হবে নগরীর বাকি অংশ। একই সঙ্গে যানজট কমিয়ে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করবে।

এ প্রকল্পের কাজ শেষ, অপেক্ষা কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উদ্বোধনের জন্যে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ৭ অক্টোবরে চালু হতে যাচ্ছে। দৃষ্টিনন্দন টার্মিনাল ভবনও এখন দৃশ্যমান। চলছে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কাজ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হলে বাড়বে উড়োজাহাজ চলাচল ও যাত্রীসেবার মান।

জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, নির্মাণাধীন এ টার্মিনালের ফিচারগুলো অত্যন্ত অত্যাধুনিক। টার্মিনালটি যখন যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে, এর ডিজাইন এবং সেবা দেখে তাদের মন আনন্দে ভরে উঠবে। তিনি আরও বলেন, নতুন এ টার্মিনাল নির্মাণ হলে যাত্রীসেবা দেওয়ার ধারণক্ষমতা প্রতি বছর ১৬ মিলিয়নে পৌঁছাবে। আর আমরা যদি আগের টার্মিনালটা ধরি তাহলে ধারণক্ষমতা পৌঁছাবে ২৪ মিলিয়ন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার তড়িঘড়ি করে ৯টি মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছে একটি পক্ষ— এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শাহবাগ থানা আ’লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাজিদ হাসনান রাসেল বলেন, ‘এইগুলা যারা বলার তারা বলে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সরকারের যে মোগাপ্রকল্পগুলো ছিল তা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়ে গেছে।

আর সম্পন্ন হওয়ার কারণে এগুলো এখন ইমপ্লিমেন্ট হতে যাচ্ছে। যাতে জনগণের অবাধ ব্যবহারের সুযোগ সুবিধা থাকে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এগিয়ে যায়। নির্বাচন নির্বাচনের সময় হবে আর দেশের উন্নয়ন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

এ প্রকল্পগুলো ব্যালট বাক্সে কোন প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু বাংলাদেশর অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। এ কাজ করছে দেশরত্ন শেখ হাসিনা, এ কাজ করছে আওয়ামী লীগ। তাই আওয়ামী লীগের প্রতি তো মানুষের একটা অনুভূতি, ভালোবাসা আসবে এটাই স্বাভাবিক।’