পুঁজিবাজারে সপ্তাহজুড়ে বাজার মূলধন বেড়েছে ৮ হাজার ৫০২ কোটি টাকা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মানের পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংক খাতের শেয়ারে বিদেশী বিনিয়োগের খবরে বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন আস্থা তৈরি হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে লেনদেনে। এর ফলে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার।
বিশেষ করে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ভর করে সূচক ও লেনদেনে নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক খাতে শেয়ারে টানা দরবৃদ্ধিতে আস্থা বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক খাতের শেয়ারে নতুন করে বিনিয়োগমুখী হয়েছেন। ফলে আস্থা বাড়ছে ব্যাংক খাতের শেয়ারে। ২০১০ সালের ধসের পর এই প্রথম ব্যাংক খাতের শেয়ারে টানা উত্থান দেখা যাচ্ছে।
পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত জাতীয় ঐক্যের সভাপতি আ ন ম আতাউল্লাহ নাঈম বলেন, গত জুলাই থেকেই পুঁজিবাজারের ইতিবাচক অবস্থা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের পর পরই পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ঢালাও পতনের মুখে ছিল পুঁজিবাজার। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়ে যাওয়ায় আমাদের রপ্তানিসহ রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা আমাদের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজার দরপতন হলেও শেষ দুই কার্যদিবসে বড় উত্থান হয়েছে। এরপরও দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে প্রায় দ্বিগু কোম্পানি। তবে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ বড় মূলধনের কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় বেড়েছে মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে বেড়েছে বাজার মূলধন। এর মাধ্যমে টানা আট সপ্তাহ পুঁজিবাজারে মূল্য সূচক ও বাজার মূলধন বাড়ালো।
এতে আট সপ্তাহের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন ৬৫ হাজার কোটি টাকা বেড়ে গেছে। তবে সপ্তাহজুড়ে সূচকের মিশ্রাবস্থায় টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে। এ সময়ে ডিএসই ও সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে। তবে উভয় পুঁজিবাজারে সপ্তাহজুড়ে বাজার মূলধন বেড়েছে ৮ হাজার ৫০২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৮ হাজার ৭ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১২ হাজার ২২৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৪ হাজার ২১৬ কোটি টাকা বা দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ৪ হাজার ১৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ৪ হাজার ২৯৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ১০২ কোটি ৯২ লাখ টাকা কমেছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৪৩ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৭০ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ১১৪ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯৩ টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪০ টির, কমেছে ২২২ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৮৮.৫৯ পয়েন্ট বা ১.২৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২০২ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ১.৭৩ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৪৮১ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ১.৪২ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩২৫ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ০.৩০ শতাংশ বেড়ে ৯৪৮ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ০.১৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২৬ হাজার ২৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ২১ হাজার ৭৩৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার ২৮৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৮১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৯১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।



