বড় মূলধনি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাধ্যতামূলক করা হবে: অর্থমন্ত্রী
মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণের বিকল্প হিসেবে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দৈনিক প্রথম আলো আয়োজিত ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুরো অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ডের’ মাধ্যমে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প গ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন মনিটর এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণের বিকল্প হিসেবে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার, ফান্ড ম্যানেজার এবং আইএফসি থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মূলধনি কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দেশে, বিদেশে ‘বাংলাদেশ বন্ড’ ফ্লোট করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে যেখানে সুদহার হবে ৬ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে।
আমীর খসরু বলেন, কর ফাঁকি রোধে কোকাকোলা, পেপসি বা বহুজাতিক ও বড় তামাক কোম্পানিগুলোর প্রকৃত মার্কেট শেয়ার যাচাই করে ন্যায্য কর আদায় করা হবে। সাধারণ রেস্তোরাঁ বা ক্ষুদ্র দোকানদারদের করের আওতায় আনতে এবং কর কর্মকর্তাদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে বছরে একটি ফ্ল্যাট রেট চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কর নীতি প্রণয়নে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি বিল পাস করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কেবল কর আদায়কারী নয় বরং বিশ্ব অর্থনীতি, স্থানীয় বাণিজ্যসহ নানা বিষয় বোঝেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে পলিসি মেকিং বডি করা হবে।
অর্থমন্ত্রী দেশবাসীকে দুই বছর ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো নয়, বরং এর সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে। দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি প্রকৃত কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
শওকত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ছিলেন পিপিআরসির চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) প্রফেসোরিয়াল ফেলো সেলিম জাহান,
ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব উর রহমান, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, টিকে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান প্রমুখ।



