তেলের দাম কমার খবরে এশিয়ার পুঁজিবাজারে উল্লম্ফন
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: তেলের দাম কমে আসায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারের চাপ কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার এশিয়ার পুঁজিবাজারে ব্যাপক উত্থান দেখা গেছে। একইসঙ্গে এনভিডিয়ার আর্থিক প্রতিবেদন বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। এপি জানায়, চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল ত্রৈমাসিকে তাদের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে রাজস্ব আয় বেড়েছে ৮৫ শতাংশ।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে এনভিডিয়া অন্যতম। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এআই চিপের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কোম্পানিটির ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। গত বুধবার নিয়মিত লেনদেনে এনভিডিয়ার শেয়ার দর ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। তবে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরবর্তী লেনদেনে তা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারসূচক কোসপি ৮ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৭৮৭ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে উঠেছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের ব্যাপক কেনাবেচার ফলে এ উত্থান ঘটেছে।
স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শ্রমিক ইউনিয়ন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ধর্মঘট এড়াতে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এনভিডিয়ার সহযোগী চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের শেয়ার দর ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কোসপি একের পর এক রেকর্ড ভাঙছে এবং প্রথমবারের মতো ৮ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে।
তাইওয়ানের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারসূচক তাইয়েক্স ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির শেয়ার দর ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৬১ হাজার ৯৩০ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইরানের যুদ্ধজনিত ধাক্কা সত্ত্বেও এপ্রিলে দেশটির রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে চীনের বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। হ্যাং সেং সূচক প্রায় অপরিবর্তিত ২৫ হাজার ৬৪৮ দশমিক ২৮ পয়েন্টে ছিল। একইভাবে সাংহাই কম্পোজিট সূচকও প্রায় স্থির ছিল। অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৬২৮ দশমিক ৮০ পয়েন্টে উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে তেলের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। এর আগের দিন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশ কমেছিল। গতকাল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ সেন্ট বেড়ে ১০৫ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেলের দাম ৯২ সেন্ট বেড়ে ৯৯ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছায়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্টের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তেল সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না সে প্রত্যাশা ও অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে দাম ওঠানামা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের শুরুতে অধিকাংশ বড় মার্কিন কোম্পানির মুনাফা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় শেয়ারবাজার নতুন রেকর্ড গড়ছে। এ ছাড়া গতকাল সকালে ডলারের বিনিময় হার ১৫৮ দশমিক ৯৮ জাপানি ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। ইউরোর দর ছিল ১ দশমিক ১৬২৪ ডলার। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ায়। চারদিনের পতনের পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে যায়।
ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। বন্ডবাজারে সুদের হার কমে আসায় পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড (সুদহার) ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশে নেমে আসে। ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে এই ইল্ড ৪ শতাংশের নিচে ছিল। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। এ কারণে সুদহার দ্রুত বাড়ছিল। মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষে সুদের হার কমানো কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।
ইতোমধ্যে সুদের হার কমার ফলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি ছোট প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে এএমডির শেয়ার দর ৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং ইন্টেলের শেয়ার দর ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ছোট মূলধনী কোম্পানিগুলোর রাসেল ২০০০ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এর উল্লম্ফনের দ্বিগুণেরও বেশি।রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠান রেড রবিন গুরমেট বার্গারসের শেয়ারদর ১৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং কাভা গ্রুপের শেয়ারদর ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মুনাফার কারণে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভোক্তাদের ব্যয় অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টার্গেটের শেয়ার দর ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মুনাফা করেছে, তবু বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক রয়েছেন। নতুন প্রধান নির্বাহী মাইকেল ফিডেলকে কোম্পানিটির বিক্রি ও আয় বাড়াতে পুনর্গঠন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।



