শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে টানা বিক্রির চাপ আরও তীব্র হয়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে মধ্যে তিন কার্যদিবসই সূচকের দরপতন হয়েছে। মুলত তিন কার্যদিবসে ১৩৭ পয়েন্ট সূচকের উধাও হলেও দুই কার্যদিবসে ৪২ পয়েন্ট সুচকের উত্থান হয়েছে। ফলে পুঁজিবাজারে তারল্য ও লেনদেনের গতি বাড়াতে মার্জিন ঋণের নিয়মকানুন শিথিল করার পথে হেঁটেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

কিন্তু নতুন খসড়ায় সংযোজিত ‘পিবি রেশিও’ বা প্রাইস টু বুক ভ্যালু শর্তটি উল্টো বীমা খাতের শেযারে বেশিরভাগ কোম্পানির জন্য মার্জিন ঋণ সুবিধা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে সূচকের বড় দরপতন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সার্বিক প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেয়ার আগ্রহ কমে যাওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। তেমনি পুঁজিবাজারের শুরু থেকেই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের স্পষ্টতার অভাবে সার্বিক শেয়ার বিক্রির চাপ প্রবল হয়ে ওঠে। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বজায় থাকলেও সার্বিক লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে কমে গেছে। লেনদেন হওয়া সব খাতেই নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।

জানা গেছে, তবে গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে। সপ্তাহটিতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। এ সপ্তাহে ৯ হাজার ৬১২ কোটি টাকার বাজার মূলধন কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১০ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৯ হাজার ৬১২ কোটি টাকা বেড়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ৫ হাজার ৩১৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

আগের সপ্তাহে হয়েছিল ৭ হাজার ৩৭৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ২ হাজার ৫৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৬ টি কোম্পানি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২০টির, কমেছে ২৪০ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে।

সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ৪৭৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৪১১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা ২৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।