এক কোটি মানুষের বেশি গার্ডিয়ান ব্র্যাক বিমায় আস্থা
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ‘সবার জন্য বিমা’ এই নীতিতে গার্ডিয়ান লাইফের ‘গার্ডিয়ান ব্র্যাক বিমা’ বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যতা কাটিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুজনিত/পঙ্গুত্বের কারণে আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলার জন্যেও কাজ করছে। ফলে দেশের এক কোটি মানুষ এই পলিসির আওতায় রয়েছে! অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি।
জীবনবিমা খাতের এ সৃজনশীল সেবা পণ্যটি গার্ডিয়ান লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের। ক্ষুদ্র বিমা এবং ক্ষুদ্র ঋণের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্যই জিবিবির জন্ম। জিবিবির ঋণ নিয়ে কোনো গ্রাহক মারা গেলে ঋণের টাকা তো মাফ হবেই, উল্টো মৃত গ্রাহকের মনোনীত ব্যক্তিকে কিছু টাকাও দেওয়া হবে।
বর্তমানে, গার্ডিয়ান লাইফ দেশের ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষের জন্য বীমা সুরক্ষা নিশ্চিত করছে এবং ৫০০-এর বেশি করপোরেট গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সেবাকে আরও শক্তিশালী করতে দেশজুড়ে এর ৪৫০টিরও বেশি অংশীদার হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়াও, গ্রাহকেরা ২৪ ঘণ্টা সহায়তা পেতে সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন ১৬৬২২-এ যোগাযোগ করতে পারে। ফলে শক্তিশালী বীমা দাবি নিষ্পত্তির রেকর্ড এবং দেশজুড়ে সেবার পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশের বীমা খাতে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করে চলেছে। এর ফলে দেশের লাখ লাখ পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর্থিক নিরাপত্তা লাভ করছে।
মুলত গার্ডিয়ান লাইফ ২০১৩ সালে লাইসেন্স পাওয়ার পরের বছর জীবনবিমা ব্যবসায় যাত্রা শুরু করে। কোম্পানিটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সেবা পণ্য চালু করে ২০১৭ সালে। আর এটিই হচ্ছে জিবিবি। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুজনিত বা পঙ্গুত্বের কারণে আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলা করার কথা বিবেচনায় রেখে এটি চালু করা হয়। এর কোনো গ্রাহক আকস্মিকভাবে মারা গেলে অনাদায়ি ঋণ আর আদায় করে না ব্র্যাক। শুধু তাই নয়, গ্রাহকের পরিবারের কোনো সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতেও পরিবারকে ঋণের জালে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। আর এর মাধ্যমে গার্ডিয়ান লাইফ বিশাল জনগোষ্ঠীর বিমা করার সুযোগ পায়।
অন্যদিকে স্বীকৃত বিমা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে জিবিবির প্রিমিয়ামের মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। ফলে গ্রাহক, ব্র্যাক ও গার্ডিয়ান লাইফ সবাই এর সুফলভোগী। জিবিবির পলিসি গ্রাহকদের দাবি নিষ্পত্তি হয় পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে। এছাড়া গ্রুপ বা গোষ্ঠী বিমা চালুর মাধ্যমে করপোরেট কোম্পানিগুলোতে অন্য রকম ভাবমূর্তি নিয়ে এসেছে গার্ডিয়ান লাইফ। একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এর আওতায় থাকেন। এটিকে স্বাস্থ্য বা মেডিকেল বিমাও বলা যায়। ৪৫০টি হাসপাতাল নিয়ে গার্ডিয়ান লাইফের একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই বিমার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের একটি করে কার্ড দেওয়া হয়। এ কার্ড নিয়ে হাসপাতালভেদে ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পান গ্রাহকেরা।
গ্রুপ বিমা নীতিতে বড়সংখ্যক কর্মীরা আওতায় থাকেন বলে কম খরচে কাভারেজের মধ্যে থাকেন। স্বাস্থ্য এবং জীবন কভারেজের আওতায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ এই বিমার আওতায় এসেছে। গ্রাহকেরা পেয়ে থাকেন ২৪/৭ কল সেন্টারের সুবিধা। কোম্পানিটির রয়েছে ২২২টি করপোরেট গ্রাহক। জিবিবির মতো এ ক্ষেত্রেও পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই দাবি নিষ্পত্তি করে থাকে। গার্ডিয়ান লাইফ অন্য সবার চেয়ে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। প্রিমিয়াম নির্ধারণের জন্য গার্ডিয়ান লাইফের ডিজাইন করা একটি ক্যালকুলেটর রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবেই প্রিমিয়াম হিসাব করা সম্ভব। আগে প্রথাগত প্রিমিয়াম হিসাব বেশ সময় নষ্ট হতো, যা এখন কয়েক সেকেন্ডেই করা যায়।
গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স সব সময়ই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাত্রা উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং দুস্থ ও অবহেলিত মানুষের জীবনে বিমার সুফল ছড়িয়ে দিচ্ছে। যাত্রা শুরুর প্রথম থেকেই গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ক্ষুদ্র বিমার উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন মডেল উদ্ভাবন করার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে যা সমাজে টেকশই উন্নয়ন সাধিত করবে। বহু প্রচেষ্টার পর, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স তাদের বহুল আলোচিত জিবিবি প্রকল্প শুরু করতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে জিবিবি প্রকল্পের আওতায় এক কোটি মানুষের বিমা সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ১৫০ কোটি ৪৮ লাখ টাকার ৫৬ হাজার ৪৭৮টি বিমা দাবি পরিশোধ করেছে গার্ডিয়ান লাইফ ইনস্যুরেন্স। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গার্ডিয়ান লাইফের দাবি নিষ্পত্তি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ১২৯ কোটি টাকার ৪৬ হাজার ১৩৪টি দাবি পরিশোধ করেছিল কোম্পানিটি।
এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রকিবুল করিম এফসিএ বলেন, আমরা প্রতিটি দাবি নিষ্পত্তির মাধ্যমে একটি করে প্রতিশ্রুতি পূরণ করি। গ্রাহকদের সবচেয়ে প্রয়োজনের সময় তাদের পাশে দাঁড়ানোই গার্ডিয়ানের মূল অঙ্গীকার। স্বচ্ছতার সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা দেয়ার মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন ও তা ধরে রাখাই আমাদের কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দু।



