শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতনে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক ভর করেছে। অর্থনীতির শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে পুঁজিবাজার প্রায়ই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারান এবং পুঁজিবাজার কাঙ্খিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়। কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে।

সে ধারাবাহিকতায় গত বছর পুঁজিবাজারের সূচক তেমন বাড়েনি। ফলে দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বাড়ছেই। ফলে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও আস্থাহীনতার অবস্থা থেকে বের করে আনতে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, বাজার কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিং এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে কঠোর ব্যবস্থা নিলেও কাজ হবে কী মাসুদ কমিশনের আমলেও পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। গত দুই কার্যদিবস সূচকের বড় দরপতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৮২২ পয়েন্টের কাছাকাছি চলে আসায় এই আতঙ্ক আরও বেড়েছে। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের পতনে কমেছে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে প্রতিনিয়ত দরপতন হওয়ায় পুঁজিবাজারে আস্থা হারাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া টানা দরপতনে অনেকে আর ভরসা রাখতে পারছেনা। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভুল সিদ্ধান্ত ও বিগত সরকারের লুটপাটই অব্যাহতভাবে পুঁজিবাজারে দরপতন হওয়ার কারণ। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ‘পিবি রেশিও’ আতঙ্কে পুঁজিবাজারের ওপর একটা প্রভাব পড়েছে। তবে এ বিষয় বিএসইসির দ্রুত সমাধান করা উচিত। কারণ গত এক মাসে অস্থিতিশীল বাজারে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ২৫ শতাংশ পুঁজি হাঁরিয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে দাম কমার তালিকায় চলে আসে অধিক সংখ্যক কোম্পানি। ফলে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। এছাড়া লেনদেনের শেষদিকে ঢালাও দরপতন হয়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৮২২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৭৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯২ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৯ টির, দর কমেছে ২৮৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭ টির। ডিএসইতে ৯৬৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬১৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ২১৫টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫২ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৯ টির এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩১ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।